সদর গেটে তালা। বন্ধ লিফট। এরপর সারা রাত বহুতলের ছাদে শব্দবাজি ফাটানো!
কালীপুজো ও দীপাবলিতে এমন প্রবণতা রয়েছে বহুতলের বাসিন্দার। তাই এই বছর বহুতলের বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করতে তাঁদের সঙ্গে থানার ওসিদের বৈঠক করতে নির্দেশ দিলেন পুলিশ কমিশনার। এদিকে, তাড়াতাড়ি রাস্তা চিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর জন্য দমকলের ইঞ্জিনে থাকবে পুলিশ। তার জন্য থানার কয়েকজন পুলিশকর্মী থাকবেন সংশ্লিষ্ট ফায়ার স্টেশনে। থানাগুলিকে এমনই নির্দেশ লালবাজারের। কোথাও আগুন লাগলে দমকলের গাড়িকে পথ চিনিয়ে নিয়ে যাবেন ওই পুলিশকর্মী। এ ছাড়াও শব্দবাজি রুখতে একশোর উপর অটো ও থানার বাইকে করে অলিগলিতেও নজরদারি করবেন পুলিশ আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার প্রত্যেকটি থানার ওসি ও পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। পুলিশের দাবি, কালীপুজো ও দীপাবলিতে বেশি রাতে শহরের অনেক বহুতলেই লিফট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সদর দরজা বা গেটে দেওয়া হয় তালা। এরপর ছাদে ফাটানো শুরু হয় শব্দবাজি। এমনকী, কে কত বাজি ফাটাতে পারেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতাও শুরু হয়ে যায় বহুতলের বাসিন্দাদের মধ্যে। এর ফলে সমস্যায় পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। এমনকী, বহুতলের অনেক বাসিন্দার আপত্তি থাকলেও তা নীরবে মেনে নেন!
পুলিশ বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কাছে অভিযোগ আসলেও বাহিনী সেই বহুতলে যাওয়ার পরও দেখা যায়, মূল গেটে রয়েছে তালা। অনেকবার ডাকার পরও কোনও বাসিন্দা বা কেয়ারটেকাররা গেট খোলেন না। আবার কোনওমতে পুলিশ ভিতরে প্রবেশ করলেও দেখা যায়, লিফট বন্ধ। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ, এই ধরনের সমস্যা এড়াতে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে থানাগুলিকে। শনিবারের মধ্যে নিজেদের এলাকার প্রত্যেকটি বহুতলে গিয়ে কমিটির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে থানার ওসি ও আধিকারিকদের। তাঁদের হাতে তুলে দিতে হবে পুলিশের প্রকাশিত লিফলেট ও পোস্টার। বলতে হবে, যদি কোনও বহুতলের ছাদ থেকে নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটানোর শব্দ শোনা গেলে সঙ্গে সঙ্গে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার করা হতে পারে কমিটির কর্তাদেরও। তার জন্য যেভাবেই হোক ছাদে উঠে চালাতে হবে তল্লাশিও। একটি এলাকার কয়েকটি বহুতলের ছাদ থেকে আশপাশের বহুতলে বাইনোকুলার নিয়ে নজরদারি চালাবেন পুলিশকর্মীরাও।
পাশাপাশি ছট পুজোয় রাস্তা ও গঙ্গার ধারে অতিরিক্ত মহিলা পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ ছটপুজোয় মহিলারাই বেশি অংশ নেন। কালীপুজোর বিসর্জনেও মোতায়েন করতে হবে অতিরিক্ত পুলিশকর্মী ও মহিলা পুলিশ। ঘাটগুলিতে যাতে নোংরা না থাকে, তার জন্য পুরসভার সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুলিশকে কাজ করতে হবে। ঘাটগুলিতে যাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আলোর ব্যবস্থা থাকে, নিরাপত্তার জন্য ডিএমজি ও নৌকা তৈরি থাকে, সেই ব্যবস্থাও নিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
