রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের মুষলপর্ব চলছে। বিধায়ক, সাংসদদের বড় অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলনেতা। তাঁর নেতৃত্বে হওয়া ‘আসল’ তৃণমূলে প্রতিদিন যোগ দিচ্ছেন একাধিক নেতা। এই পরিস্থিতিতে কোনওভাবেই যেন তৃণমূলের ‘শূন্যস্থানে’ সিপিএম না ঢুকে পড়তে পারে। এই বিষয়ে বিজেপিকে সতর্কবার্তা প্রবীণ নেতা তথাগত রায়ের।
সামাজিক মাধ্যমে বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় এদিন সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আজকে তৃণমূলের ইমপ্লোশনের ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে সেখানে যেন সিপিএম ঢুকে না পড়ে সেদিকে বিজেপিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কম্যুনিস্ট মানেই ভন্ড, এই সরল কথাটা এখনো আমাদের, অর্থাৎ বাঙালি হিন্দুদের অনেকের মগজে ঢুকল না?” প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই ভাঙন চলছে। লোকসভার ২০ সাংসদ বেরিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যসভার ৩ জন দলত্যাগ ও সাংসদ পদ ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার পদ ত্যাগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্রমশ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক আবহে প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে, এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এই আবহে মাঠে নেমে পড়েছে সিপিএম। বামেরা নিজেদের রক্তপাত বন্ধ করে ফের মানুষের জনমত পেতে মরিয়া।
তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক আবহে প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে, এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এই আবহে মাঠে নেমে পড়েছে সিপিএম। বামেরা নিজেদের রক্তপাত বন্ধ করে ফের মানুষের জনমত পেতে মরিয়া। হকার উচ্ছেদ, বুলডোজার অভিযান-সহ একাধিক ইস্যুতে মাঠে নেমেছে সিপিএম। তৃণমূলের এই ‘শূন্যস্থানে’ সিপিএম যাতে কোনওরকম মাথা তুলতে না পারে বঙ্গ রাজনীতিতে, তেমনই সতর্ক করেছেন তথাগত। কমিউনিস্ট মানেই ‘ভণ্ড’, সেই কটাক্ষও করেছেন তিনি। বামেরা মুসলমান ভোট নিজেদের দিকে একসময় রেখেছিল। তৃণমূল সেই সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসিয়েছিল। তৃণমূলে ভাঙন ধরায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক জোড়াফুল শিবির থেকে সরতে শুরু করেছে বলেও মত ওয়াকিবহাল মহলের। ফলতা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকে চার নম্বরে উঠে এসেছে। শেষে থাকা সিপিএম ওই কেন্দ্রে ভোটের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে। তাহলে কি সংখ্যালঘু ভোট ফের লালঝান্ডার তলায় আসতে শুরু করল? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
তগাগত কটাক্ষ করে লিখেছেন, “কম্যুনিস্টরা মুসলমানের ভোটের জন্য আধ হাত জিভ বার করে ল্যা ল্যা করে। বিকাশ ভট্টাচার্যের ভাগাড় থেকে তোলা পচা গরুর মাংস খাওয়া তারই নিদর্শন – যদিও মহম্মদ সেলিমকে শুয়োরের মাংস খাওয়ানো যায়নি। তবে ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে সেলিম বড়বাজারে হনুমান মন্দিরে হনুমানজির চরণামৃত খেয়েছিল।” তাঁর বার্তায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মাদ্রাসা নিয়ে বক্তব্যের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
