ঢাকার পাক-চিন ঘনিষ্টতার মধ্যেই বন্ধুত্বের বার্তা, বাংলাদেশকে ২০০ রেল কোচ পাঠাচ্ছে ভারত

ঢাকার পাক-চিন ঘনিষ্টতার মধ্যেই বন্ধুত্বের বার্তা, বাংলাদেশকে ২০০ রেল কোচ পাঠাচ্ছে ভারত

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৭ মাসের শাসনকালে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, তীব্র ভারত বিরোধিতা অতীত। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে ঢাকা। এর মধ্যেই পালটা বন্ধুত্বের বার্তা দিল দিল্লি। পদ্মপাড়ের গরিবের বাহন ‘রেল পরিষেবা’ উন্নয়নে এবার বাংলাদেশের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াল ভারত। দ্রুতই বাংলাদেশি রেলওয়ের জন্য ২০০ কোচ পাঠাতে চলেছে দিল্লি। এই সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে চালু হচ্ছে নতুন ৩টি রেল রুট।

ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, পাকিস্তান-চিনের কূটচালে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এখনও জোরাল না হলেও আগের তুলনায় ভালো। ইতিমধ্যে খাদ্যপণ্য ও ডিজেল পাঠিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সদ্য আম কূটনীতির শুভেচ্ছা বার্তাও লক্ষ্যনীয়। এবারে ২০০ রেল কোচ পাঠানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, স্বল্প খরচে ও দ্রুত পরিষেবার লক্ষ্যে বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে নতুন নতুন রেলপথ তৈরি হয়েছে। কিন্তু কোচ-সংকটে এতদিন এইসব রুটে ট্রেন চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী আগস্টে ভারত থেকে ২০০ ব্রডগেজ কোচ আসার পর সংকট কাটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মহম্মদ মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, আগামী আগস্টে ভারত থেকে আমদানি করা ২০০ রেলওয়ে ক্যারেজ (কোচ) আসার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এসব কোচ আসার পর নতুন রুটগুলিতে ট্রেন বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালে যমুনা সেতু-পাবনা, ২০২২ সালে ঢাকা-পদ্মা সেতু-যশোর, ঢাকা-পদ্মা সেতু-ফরিদপুর আর ২০২৪ সালে খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু হলেও এসব রুটে ব্রডগেজ ইঞ্জিন ও কোচের স্বল্পতায় পর্যাপ্ত ট্রেন দিতে পারেনি তারা।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, দর্শনাকে আমাদের বাণিজ্যিক হাব করার চেষ্টা আছে, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখানে অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় রয়েছে।

এর মধ্যে যমুনা সেতু-পাবনা ও খুলনা-মোংলা রুটে কোনও ট্রেনই দিতে পারেনি রেলওয়ে। ভারতীয় নতুন কোচ এলে পর্যায়ক্রমে এসব রুটে ট্রেন যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, নতুন কোচ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রথমে ঢাকা-পাবনা রুটে ট্রেন চালু হবে। এরপর ঢাকা-খুলনা রুটে ট্রেন চালানো হবে। এটাকে মোংলা পর্যন্ত নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, পুরনো কোচগুলো দিয়েই গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে একটি কমিউটার ট্রেন চালানো হবে। অন্য রুটে পুরনো কিছু ট্রেনের কোচ পরিবর্তন করতে হবে। এর মধ্যে রাজশাহীতে পাঁচটি ট্রেন চলে। সেগুলিতে কোচ পরিবর্তন করে নতুন কোচ দেওয়া হবে। এসব অবমুক্ত কোচ দিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া লোকাল, কমিউটার আর মেইল ট্রেনগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রেল সূত্র জানিয়েছে, পদ্মা সেতু দিয়ে সরাসরি নতুন রেলপথ চালু হওয়ার পরও ঢাকা-খুলনা রুটে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ছাড়া নতুন কোনও ট্রেন চালু হয়নি। এছাড়া সুন্দরবন এক্সপ্রেস আর বেনাপোল এক্সপ্রেস রুট পরিবর্তন করে যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু দিয়ে চলছে। সরাসরি যশোর রুট দিয়ে চলার দাবি থাকলেও সেই পথে না চলে ঘুরপথে ফরিদপুর-কুষ্টিয়া হয়ে চলছে।

বেনাপোল-ঢাকা, খুলনা-ঢাকা, দর্শনা-ঢাকা রুটে সরাসরি চারটি ট্রেন দ্রুত চালু করা না হলে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে আন্দোলনের ডাক।

এদিকে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান ভিটু মিডিয়াকে জানান, ‘যশোর-খুলনা-ঝিনাইদহ থেকে সরাসরি ট্রেন চলাচল এই অঞ্চলের জন্য যেমন লাভজনক, তেমনি রেলওয়ের জন্যও লাভজনক। যশোর থেকে কোনও প্রভাতি ট্রেন নেই। এটা প্রয়োজন। এদিকে দর্শনা-ঝিনাইদহ-কোটচাঁদপুরের মানুষও ঢাকার সঙ্গে যশোর হয়ে সরাসরি যোগাযোগ চাইছে। যদি বেনাপোল-ঢাকা, খুলনা-ঢাকা, দর্শনা-ঢাকা রুটে সরাসরি চারটি ট্রেন দ্রুত চালু করা না হয়, তাহলে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’

এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘দর্শনাকে আমাদের বাণিজ্যিক হাব করার চেষ্টা আছে, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখানে অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় রয়েছে। তবে এখানে ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি মেরামতের জন্য ওয়াশপিট নেই। এটা করার আগ পর্যন্ত এই রুটে নতুন ট্রেন চালু করা সম্ভব নয়। তবে অন্য রুটগুলোতে পর্যায়ক্রমে চাহিদা সাপেক্ষে ট্রেন চালু করা হবে।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংসদে ট্রেনের গতি বাড়াতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছিলেন, যাত্রীদের আরামদায়ক ট্রেনভ্রমণ নিশ্চিত এবং মালপত্র পরিবহনের মাধ্যমে রেলওয়ের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য অদূর ভবিষ্যতে ২৬০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ ও ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করার জন্য প্রকল্প অনুমোদনের কাজ চলছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *