ড্রাগনের ‘উরুভঙ্গে’ চিন সাগরে ওরা কারা? গুপ্তচর কচ্ছপ ও মাছেদের হানাদারিতে শঙ্কিত বেজিং

ড্রাগনের ‘উরুভঙ্গে’ চিন সাগরে ওরা কারা? গুপ্তচর কচ্ছপ ও মাছেদের হানাদারিতে শঙ্কিত বেজিং

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


দক্ষিণ চিন সাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত প্রতিটি উপকূলীয় দেশের অন্যতম মাথাব্যাথার নাম চিন। সমুদ্রে ‘দাদাগিরি’ ফলানো সেই চিন এবার বিপাকে। তাদের ঘরেই নাকি উঁকি দিচ্ছে বহিঃশত্রু। বিরাট আড়ম্বর নয়, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সামান্য জলজ প্রাণীদের (মাছ, কচ্ছপ) দ্বারা ঘিরে ফেলা হয়েছে চিনকে। সমুদ্রে বেজিংয়ের যাবতীয় সামরিক কার্যকলাপ, প্রস্তুতি সমস্ত কিছু নজরে রাখা হচ্ছে এবং সমস্ত তথ্য পাঠানো হচ্ছে কোনও অজ্ঞাত শত্রুর কাছে। সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে বেজিং। চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, কোনও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে। এই ঘটনাকে ‘অদৃশ্য গোপন যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে চিন।

শুক্রবার সোশাল মিডিয়ায় এক পোস্টে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের জলসীমায় শরীরে সেন্সর লাগানো বেশকিছু জলজ সামুদ্রিক প্রাণী দেখা গিয়েছে। এই প্রাণীগুলির শরীরে বসানো অত্যাধুনিক যন্ত্র জলের তাপমাত্রা, লবনাক্তরা, সমুদ্রস্রোতের রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাচ্ছিল। তবে এই গুপ্তচর প্রাণীগুলিকে কোথায় পাওয়া গিয়েছে, কোন দেশ এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সে বিষয়ে অবশ্য কিছু জানানো হয়নি। তবে চিনের দাবি অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে বিদেশি গুপ্তচর সংস্থাগুলি এইসব সামুদ্রিক গুপ্তচর ব্যবহার করে চিনা নৌবাহিনীর গতিবিধি, সমুদ্রতলের মানচিত্র এবং তেল ও গ্যাসের মজুদ পর্যবেক্ষণ করছে।

আরও পড়ুন:

কিছু প্রাণীর শরীরে মিলেছে বুওয়া (BUOY) নামক যন্ত্র. আবহাওয়া সংক্রান্ত সেন্সরযুক্ত এইসব যন্ত্র রিয়েল টাইম চিনা সাবমেরিনের শব্দ ট্র্যাক করতে সক্ষম। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছে ‘ওয়েভ গ্লাইডার’।

চিনের দাবি, মূলত তিনটি পদ্ধতিতে এরা দেশের গোপন তথ্য সংগ্রহ করছে। সমুদ্রের নিচের মানচিত্র ও জাহাজের গতিবিধি সংগ্রহ করা। দ্বিতীয়ত, সামুদ্রিক স্রোত বরাবর সাঁতারে জলপথের তথ্য সংগ্রহ এবং তৃতীয়ত, মাছ কচ্ছপদের পিঠে থাকা যন্ত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চিনের জলসীমার মধ্য দিয়ে সবার অলক্ষে যাতায়াতের পথ তৈরি। দাবি করা হচ্ছে, কিছু প্রাণীর শরীরে মিলেছে বুওয়া (BUOY) নামক যন্ত্র. আবহাওয়া সংক্রান্ত সেন্সরযুক্ত এইসব যন্ত্র রিয়েল টাইম চিনা সাবমেরিনের শব্দ ট্র্যাক করতে সক্ষম। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছে ‘ওয়েভ গ্লাইডার’। যে যন্ত্রে চিন নৌবাহিনীর সামরিক পাচার করা হচ্ছিল। দাবি করা হচ্ছে, অত্যাধুনিক এইসব যন্ত্র স্বয়ংক্রিয় বা রিমোর্টের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে সক্ষম। তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও তথ্য পাঠানোর আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে এতে। মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর এই ডিভাইসগুলি নিজে থেক ধ্বংস হয়ে যায়। যাতে তথ্যপ্রমাণ ফাঁস না হয়।

এই ধরনের গুপ্তচরবৃদ্ধি রুখতে এবং এইসব যন্ত্র আটক করতে জেলেদের জন্য আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। কোনও জেলে যদি দেশের জলসীমায় এ ধরনের যন্ত্র খুঁজে পান, তবে বাজেয়াপ্ত যন্ত্রের গুরুত্বের ভিত্তিতে ৫০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ ইউয়ান পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সামুদ্রিক প্রাণীর সামরিক ব্যবহারের অভিযোগ অবশ্য বিশ্বে নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছিল রাশিয়া তাদের নৌঘাঁটি রক্ষার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডলফিন বাহিনী মোতায়েন করেছে। ২০১৯ সালে, নরওয়ের উপকূলে ক্যামেরা ও হারনেস পরা একটি বেলুগা তিমিকে দেখা যায়। অনুমান করা হয়েছিল, তিমিটিকে রুশ নৌবাহিনী গুপ্তচরবৃত্তির জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *