একদিন আগে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা। পরদিনই বড়সড় ঘোষণা পাঞ্জাবের একসময়ের শাসকদল শিরোমণি অকালি দলের। কেন্দ্রের প্রস্তাবিত আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থন করবেন সুখবীর সিং বাদলরা। যার অর্থ প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে আরও খানিকটা এগোল মোদি সরকার। একই সঙ্গে পাঞ্জাবে অকালি দলের সঙ্গে বিজেপির জোটের রাস্তা আরও সুগম হয়ে গেল।
১৯৯৬ সাল থেকে এনডিএ-র শরিক ছিল আকালি দল। পাঞ্জাব তো বটেই দিল্লিতে এনডিএ-র সরকার গঠনে মুখ্য ভূমিকা ছিল তাদের। তবে বিজেপি ও অকালি দলের সম্পর্কে দাঁড়ি পড়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আলাদাভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয় দুই দলই। পাঞ্জাবের নেতৃত্বে আসে আম আদমি পার্টি। সম্পর্কের সেই টানাপোড়েনের পর শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সুখবীর সিং বাদলের সাক্ষাৎ। যার পরই গুঞ্জন শুরু হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তা হলে কি পাঞ্জাবে জোট বাঁধতে পারে বিজেপি ও অকালি?
আরও পড়ুন:
এরই মধ্যে শনিবার সুখবীর সিং বাদল ঘোষণা করলেন, “শিরোমণি অকালি দল দ্রুত মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছে। কেন্দ্র সরকার যে আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে গোটা দেশের সব রাজ্যের আসনসংখ্যা ৫০ শতাংশ হারে বাড়াতে চাইছে, তাতেও আপত্তি নেই অকালি দলের।” সুখবীর সিং বাদলের কথায়, “আমরা সেই সব শিখ গুরুদের থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেছি যারা সবসময় মহিলাদের সম্মান, ক্ষমতায়ন এবং সাম্যের কথা বলে।” অর্থাৎ কেন্দ্র যে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ঢাল করে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে চাইছে, সেই মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার জন্যই ডিলিমিটেশনে সমর্থন ঘোষণা করে দিল বাদলদের দল।
যদিও কার্যক্ষেত্রে অকালি দলের এই সমর্থন ঘোষণা মূলত প্রতীকী। সংখ্যাতত্ত্বের দিক থেকে অকালিদের সমর্থন বিরাট কিছু সুবিধা দেবে না বিজেপিকে। অকালিদের লোকসভায় মোটে একজন সাংসদ রয়েছেন। তবে বিজেপি মনে করছে, বিন্দু-বিন্দুতেই সিন্ধুর জন্ম হয়। অকালিদের সমর্থন এনডিএর প্রাক্তন বন্ধুদের বার্তা দেবে। ইতিমধ্যেই অন্ধ্রের ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং ওড়িশার বিজেডির সঙ্গে কথা শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাছাড়া ডিএমকে সমর্থন করবে না বলে জানালেও তাঁদের আশা ছাড়ছে না গেরুয়া শিবির। এখনও কথা চলছে স্ট্যালিনদের সঙ্গে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
