ডিগ্রি ছাড়াই অন্ত্রের চিকিৎসা! বেহালায় রোগীর মৃত্যুর তদন্তে স্বাস্থ্য কমিশন

ডিগ্রি ছাড়াই অন্ত্রের চিকিৎসা! বেহালায় রোগীর মৃত্যুর তদন্তে স্বাস্থ্য কমিশন

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


স্টাফ রিপোর্টার: ডিগ্রি নেই। অথচ বেসরকারি হাসপাতালের ওয়েবসাইটে তিনিই পেট ও অন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর অধীনে চিকিৎসা করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন রোগী। বেহালার ডায়মন্ডহারবার রোডের বেসরকারি নারায়ণ মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্তে নামল রাজ‌্য স্বাস্থ‌্য নিয়ন্ত্রক কমিশন।
জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা শামসুল হকের মায়ের পেটব‌্যথা ছিল। নারায়ণ মেমোরিয়াল হাসপাতালে মাকে নিয়ে গিয়ে ডা. অমিতাভ রায়কে দেখান শামসুল। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি বা ইউএসজি করে চিকিৎসক বলেন, গলব্লাডারে স্টোন রয়েছে। হাসপাতালেরই গ‌্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. সব‌্যসাচী পট্টনায়েকের কাছে রেফার করা হয়। তড়িঘড়ি এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগেড কোল‌্যাঞ্জিও প‌্যানক্রিয়াটোগ্রাফি বা ইআরসিপি করেন চিকিৎসক। এই পদ্ধতিতে মুখ দিয়ে পাতলা ক‌্যামেরাযুক্ত নল প্রবেশ করানো হয়। সে পদ্ধতি প্রয়োগ করেও কোনও স্টোন পাননি চিকিৎসক। পরে ম‌্যাগনেটিক রেজোন‌্যান্স কোল‌্যাঞ্জিও প‌্যানক্রিয়াটোগ্রাফি বা এমআরসিপিও করা হয়। এতে আরও জটিল হয়ে পড়ে রোগীর শারীরিক অবস্থা।

অভিযোগ, স্থিতিশীল না করেই রোগীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় অন‌্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে। দু’দিন পর সেখানেই রোগী মারা যান। তারপরেই কমিশনে অভিযোগ জমা দেন শামসুল। সোমবার দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্বাস্থ‌্য নিয়ন্ত্রক কমিশন জানিয়েছে, যাচাই করে দেখা গিয়েছে ডা. সব‌্যসাচী পট্টনায়েক গ‌্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট নন। তাঁর ডিগ্রিও নেই। শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার উপর ভর করে পেট ও অন্ত্রের সমস‌্যার রোগী দেখেন তিনি। এর কারণ সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ‘‘আমরা ডা. সব‌্যসাচী পট্টনায়েককে গ্র‌্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের অ‌্যাসোসিয়েট কনসালট‌্যান্ট হিসাবে রেখেছি। সেই হিসাবেই উনি রোগী দেখেন।’’

রাজ‌্য স্বাস্থ‌্য নিয়ন্ত্রক কমিশনের সম্মাননীয় সদস‌্য প্রখ‌্যাত চিকিৎসক ডা. মাখনলাল সাহার বক্তব‌্য, শুধুমাত্র আল্ট্রাসোনোগ্রাফি রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ওই রোগীর ইআরসিপি করা উচিত হয়নি। শতকরা পঁচিশ শতাংশ ক্ষেত্রে ইউএসজি রিপোর্টে গরমিল হতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। রোগীর প্রথমে এমআরসিপি করা উচিত ছিল। তা হলে এই অবস্থা হত না। সরাসরি ইআরসিপি করতে গিয়েই রোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ‌্য নিয়ন্ত্রক কমিশনের চেয়ারম‌্যান প্রাক্তন বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এটা শুধুমাত্র চিকিৎসার গাফিলতি নয়, সার্বিকভাবে হাসপাতালেরও গাফিলতি। গোটা বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। রোগীর থেকে নেওয়া টাকা সম্পূর্ণ ফেরত দিতে বলা হয়েছে হাসপাতালকে। কী করে ডা. সব‌্যসাচী পট্টনায়েক গ‌্যাস্ট্রোএন্টেরোলজির ডিগ্রি ছাড়াই রোগী দেখছেন? তার সম‌্যক কারণ দেখাতে বলা হয়েছে। জবাব পেলে তা খতিয়ে দেখে বিষয়টিতে রায় দেবে স্বাস্থ‌্য নিয়ন্ত্রক কমিশন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *