টাটকা চোরবাগানের ক্ষত, এবছর বিজয়া উদযাপনে ‘না’ মমতার, বিরোধীদের খোঁচা ‘সাংগঠনিক দুর্বলতা’

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


২০২৫ সাল পর্যন্তও ছবিটা অন্যরকম ছিল। কালীঘাটের বাড়ি তো বটেই, জেলায় জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দুর্গাপুজো উদযাপন হতো হইহই করে। বিজয়া দশমীতেও মেগা সেলিব্রেশন। দলের নেতা-কর্মীরা নেত্রীর বাড়িতে ভিড় করে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন, হতো দেদার মিষ্টিমুখ। কিন্তু একবছরের মধ্যে সেই চিত্রে সম্পূর্ণ বদল। এবছর আর কালীঘাটে মমতাপন্থী তৃণমূল কর্মীদের ভিড় নেই, নেই উদযাপনও। কারণ, নেত্রী নিজেই তাতে ‘না’ করেছেন। ছাব্বিশে শুধু তৃণমূলের ক্ষমতা থেকে বিদায় নয়। পুজোর মধ্যে কলকাতার বুকে ঘটে গিয়েছে নিদারুণ বিপর্যয়। চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জনের। সেই ক্ষত বুকে নিয়েই এবার আর কোনও সেলিব্রেশন হচ্ছে না মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে।

সূত্রের খবর, বিজয়া দশমীতে মিষ্টিমুখ নয়। দলের কর্মীদের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ, সবাই আসুন, শুভেচ্ছা জানান – এই পর্যন্তই। কোনও মিষ্টিমুখ হবে না।

আরও পড়ুন:

প্রতি বছর বিজয়ার পর দীর্ঘ প্রায় দিন পনেরোর জনসংযোগ কর্মসূচি থাকত তৃণমূল কংগ্রেসের। কালীঘাট থেকে শুরু করে জেলায় দলের পার্টি অফিসগুলি এবং পাড়ায় পাড়ায়, বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ঘাসফুল শিবিরের নেতা-কর্মীরা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যেতেন। দেদার খাওয়াদাওয়াও হতো। কিন্তু এবার আর সেসব হচ্ছে না। সূত্রের খবর, বিজয়া দশমীতে মিষ্টিমুখ নয়। দলের কর্মীদের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ, সবাই আসুন, শুভেচ্ছা জানান – এই পর্যন্তই। কোনও মিষ্টিমুখ হবে না।

এর মূল কারণ, চোরবাগানের বিপর্যয়। গত ১৭ অক্টোবর, সপ্তমীর দিনে সন্ধ্যায় বৃষ্টি আর ভিড়ের চাপে উত্তর কলকাতার ওই মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে তরতাজা ১৯ জন প্রাণ হারান। ওই দুর্ঘটনার পরপরই এক্স হ্যান্ডল পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সকলে শোকপ্রকাশ করেছিলেন। পুজোর কলকাতায় এত বড় বিপর্যয়ের নজির সাম্প্রতিক অতীতে নেই।

এই ক্ষত তো রয়েছেই। এছাড়া নতুন সরকার গঠনের পর থেকে দলের বহু কর্মী, সমর্থক বিপদে রয়েছেন। তাঁরা শাসকদলের কর্মীদের হাতে আক্রান্ত বলে অভিযোগ উঠছে। তাঁদের নিয়েও চিন্তিত দলনেত্রী। সবমিলিয়ে, এবছরের বিজয়া দশমীতে মোটেই হইচই করে পালন করার মতো পরিবেশ নেই বলে মনে করেন মমতা। তাই কালীঘাটে বিজয়া সেলিব্রেশন হচ্ছে না। যদিও বিরোধীদের খোঁচা, সাংগঠনিকভাবে ক্রমশ আরও দুর্বল হচ্ছে কালীঘাট শিবির, মাঠে নেই কর্মী-সমর্থকরা। একা হওয়ার ফলেই এই সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *