জেপিসি নিয়ে চিড় ‘ইন্ডিয়া’ জোটে

জেপিসি নিয়ে চিড় ‘ইন্ডিয়া’ জোটে

শিক্ষা
Spread the love


নবনীতা মণ্ডল, নয়াদিল্লি: সদ্যসমাপ্ত বাদল অধিবেশনে শাসক শিবিরকে বেগ দিয়েছে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীরা। একাধিক বিতর্কে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি একসঙ্গে গলা মিলিয়েছে। কিন্তু অধিবেশন শেষ হতে না হতেই বিরোধী ঐক্যে ভাঙনের লক্ষণ স্পষ্ট। যার কেন্দ্রে রয়েছে যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)-তে প্রতিনিধিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন।

গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা লোকসভায় ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী সহ তিনটি বিতর্কিত বিল পেশ করেন। ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধ বা দুর্নীতির অভিযোগে টানা ৩০ দিন আইনি হেপাজতে থাকেন সেক্ষেত্রে তাঁকে পদ খোয়াতে হবে। বিলটি উপস্থাপনের সময় বিরোধী শিবিরে ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার ছবি দেখা গেলেও এক সপ্তাহের মধ্যে চিত্রপট পালটে গিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (সপা) এবং আম আদমি পার্টি (আপ) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা জেপিসিতে কোনও সদস্য পাঠাবে না। তৃণমূলের বক্তব্য, জেপিসি আসলে ‘ভাঁওতা’, যে কমিটির মাধ্যমে সরকার কেবলমাত্র একটি নাটক মঞ্চস্থ করছে। সূত্রের খবর, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাও একই পথে হাঁটতে পারে।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে কংগ্রেস। তাদের মতে, জেপিসিতে থেকে শক্তিশালী বিরোধিতা গড়ে তোলা সম্ভব এবং সরকারপক্ষের অযৌক্তিক পদক্ষেপগুলি জনসমক্ষে আনার জন্য এই মঞ্চ কাজে লাগানো যেতে পারে। শুধু তাই নয়, কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছেন, বিতর্কিত এই বিলগুলি নিয়ে জনমত তৈরির জন্য জেপিসিতে অংশগ্রহণ করাই কৌশলগতভাবে লাভজনক। তাদের সঙ্গে একমত বাম দলগুলি। ডিএমকে, এনসিপি, আরজেডি এবং জেএমএম-কে এই ইস্যুতে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছে কংগ্রেস।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেপিসি নিয়ে এই দ্বন্দ্ব বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে সামনে নিয়ে এসেছে। এ প্রসঙ্গে এক বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, ‘আমরা জানি যে জেপিসির নেতৃত্ব থাকবে এনডিএ-র হাতে, কিন্তু বিরোধী কণ্ঠকে একবারে অদৃশ্য করে দেওয়া উচিত নয়। সংসদে আলোচনা না করে বিল পাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই জেপিসিতে আমাদের অবস্থান জানানো জরুরি।’

রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা, কংগ্রেস যদি জেপিসিতে একা যায় এবং তথাকথিত ‘নিরপেক্ষ’ দলগুলি যেমন বিজেডি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, বিআরএস সেখানে যুক্ত হয়, তাহলে বিরোধী কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তখন সরকার পক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা জেপিসিতে এই নিরপেক্ষ দলগুলির অবস্থান ‘বিরোধী মত’ হিসেবে গণ্য হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *