চোরবাগানের বিপর্যয়ের ঘটনাকে ‘ছোট ঘটনা’ বা ‘ষড়যন্ত্র’ বলতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়ে দেন, এই ঘটনায় দায়ী কাউকে আড়াল করবে না সরকার। আগামী দিনে সুষ্ঠুভাবে সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে ও চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পরামর্শ চান মুখ্যমন্ত্রী। আগামীদিনে সব উৎসব সুষ্ঠুভাবে করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গনে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চোরবাগানের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগের সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এবার কাউকে পুজো করার জন্য হাই কোর্টে যেতে হয়নি। শুভেন্দুর অভিযোগ, আগে নির্দিষ্ট সময়ে মাইক বাজানো যেত না, আগে বলা হত নির্দিষ্ট রুট দিয়ে বিসর্জন হবে না। এর জন্য কোনও সম্প্রদায়কে দায়ী করতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকার মাথা নত করেছিল। বিগত সরকারের ব্যর্থতাতেই এসব ঘটনা ঘটত। তাঁর কথায়, “ধর্ম যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্ব তার, মানুষ এটা বুঝেছে।” শুভেন্দু জানান, চোরবাগান থেকে শিক্ষা নিয়ে ছট, জগদ্ধাত্রী, কার্তিক পুজোয় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুজো কমিটি ও প্রশাসনকে আগাম সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি।
আরও পড়ুন:
চোরবাগানের ঘটনার পর আহত ২৫ জনকে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। সেই বিতর্কের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইগো দেখিয়ে কাউকে সরকারি হাসপাতালে আটকে রাখা হয়নি। প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সবাইকে বাড়িতে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর কথায়, “এখানে ব্যর্থতার কিছু নেই। এখানে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার তুলনায় প্রাইভেট হাসপাতালের পরিষেবা ভালো। ইগো, অহংকার দেখিয়ে, হাম কিসি সে কম নেহি বলে সরকারি হাসপাতালে আটকে রাখিনি।” উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক অপরাধমূলক ঘটনা বা দুর্ঘটনাকে ছোট ঘটনা, ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার মতো এই সব শব্দবন্ধ দিয়ে চোরবাগানের ঘটনাকে দাগিয়ে দিতে চান না শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ। দায়ী কাউকে আড়াল করবে না সরকার।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
