ছেলের সামনেই মাকে তুলে নিয়ে ‘ধর্ষণে’র চেষ্টা! বাঁচাতে গিয়ে বেধড়ক মার খেলেন স্বামী, সন্তান

ছেলের সামনেই মাকে তুলে নিয়ে ‘ধর্ষণে’র চেষ্টা! বাঁচাতে গিয়ে বেধড়ক মার খেলেন স্বামী, সন্তান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


ধীমান রায়, কাটোয়া: অসুস্থ মাকে বাইকের পিছনে বসিয়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলেন ছেলে। পথেই বিপত্তি। রাস্তার মাঝখানে সেই বাইক থামায় দুষ্কৃতীরা। ছেলের সামনেই মাকে ধর্ষণের চেষ্টা চলে বলে অভিযোগ। স্বভাবতই এমন গুরুতর অপরাধ ঘটতে চলেছে, চোখের সামনে তা দেখে প্রতিবাদ করেন ছেলে। তাতে বাধা পেয়ে মা-ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ওই মহিলার স্বামী ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও আক্রান্ত হন। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের চর সুজাপুর এলাকার। ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচলেও আক্রান্ত হয়ে ওই মহিলা হাসপাতালে ভর্তি। মহিলার লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনার তদন্ত শুরু করবে পুলিশ। অভিযুক্তরা পলাতক।

ভাগীরথী নদীর অপর পাড়ে নদিয়া জেলার সীমান্ত এলাকায় তিন, চারটি গ্রাম পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানা এলাকার অন্তর্গত। চর সুজাপুর তেমনই একটি গ্রাম। সেখানকারই বাসিন্দা ওই গৃহবধূ। তাঁর স্বামী পেশায় কৃষক। ২৩ বছরের ছেলেও চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত। মহিলার স্বামী বিশেষভাবে সক্ষম। দিন কয়েক ধরে স্ত্রীও অসুস্থ। শুক্রবার রাতে তাই ডাক্তার দেখানোর জন্য ছেলের সঙ্গে বাইকে চড়ে কালীগঞ্জ বাজারে যাছিলেন মহিলা।তখনই নেমে আসে বিপদ।

কালীগঞ্জ যাওয়ার পথে ফাঁকা মাঠ পড়ে। তা পেরিয়ে তবে বাজার। অভিযোগ, সেই ফাঁকা তিনটি বাইকে ছ’জন এসে তাঁদের পথ আটকায়। ছেলে বাইক থামালেই শুরু হয় মারধর। মফি, মহিবুল এবং আলাই শেখ নামে এলাকারই তিন যুবক ওই মহিলাকে টানতে টানতে রাস্তার ধারে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। মাকে রক্ষা করার জন্য ছেলে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। বাবাকে ফোন করে ঘটনার কথা বলেন তিনি। ওই মহিলার স্বামী দ্রুত সেখানে পৌঁছন। তখন অভিযুক্তরা মহিলাকে ছেড়ে বাবা-ছেলেকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। শেষপর্যন্ত ওই ছয়জন এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার জেরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই মহিলা। আক্রান্ত তিনজন সেই অবস্থায় কালীগঞ্জ থানায় গিয়েছিলেন। এবার শুরু হয় থানার মধ্যে টানাপোড়েন। কালীগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, এলাকাটি কেতুগ্রাম থানা এলাকার মধ্যে পড়ে। চর সুজাপুরে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ ফাঁড়িতে তারপর তাঁরা গিয়েছিলেন। সেখানে বিষয়টি জানানো হয়। গভীর রাতে ওই মহিলা আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যেহেতু কেতুগ্রাম থানা কাটোয়া মহকুমার অধীনস্থ, তাই ঘটনার খবর পেয়ে খতিয়ে দেখার কথা বলেন সেখানকার এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রি। তিনি বলেন, “ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল, জানার জন্য এক মহিলা পুলিশ অফিসারকে কাটোয়া হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। মহিলার বয়ান নেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ দায়ের করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনায় অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *