চলন্ত ট্রেনে খাকি পোশাকে পুলিশের ছদ্মবেশে চুরি! নৈহাটিতে জিআরপির হাতে গ্রেপ্তার কুখ্যাত সঞ্জয়

চলন্ত ট্রেনে খাকি পোশাকে পুলিশের ছদ্মবেশে চুরি! নৈহাটিতে জিআরপির হাতে গ্রেপ্তার কুখ্যাত সঞ্জয়

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


খাকি পোশাক পরে পুলিশের ছদ্মবেশে চলন্ত ট্রেন থেকে চুরি। পুলিশের পোশাকে তল্লাশি চালানোর নাম করেই ব্যাগ হাতিয়ে পালিয়ে যেত দুষ্কৃতী! কিন্তু এক চিকিৎসকের ব্যাগ-সহ তাঁর এমবিবিএসের শংসাপত্র ও আরও গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতাতেই বিপদে পড়ে যায় ওই অভিযুক্ত! সিসিটিভির সূত্র ধরে রেল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার কুখ‌্যাত দুষ্কৃতী সঞ্জয় ব্যাপারী। সে মূলত হুগলির চুঁচুড়ার বাসিন্দা হলেও সম্প্রতি ‘কাজের সূত্রে’ উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি অঞ্চলে থাকছিল। সেই সূত্র ধরে নৈহাটি জিআরপির আধিকারিকদের হাতে গ্রেপ্তার সঞ্জয়।

আরও পড়ুন:

পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধরে ট্রেনে অপরাধে সিদ্ধহস্ত সঞ্জয়। কখনও কুলি, কখনও হকারের ছদ্মবেশে হাতিয়ে নিত যাত্রীদের ব্যাগ। আবার কখনও বা মোবাইল। সম্প্রতি  পুলিশের ছদ্মবেশ ধরে হাত সাফাইয়ের কাজ শুরু করে অভিযুক্ত! পুলিশ সূত্রে খবর, একেবারে খাকি পোশাক পরে নিজেকে রেল পুলিশের কনস্টেবল পরিচয় দিয়েই শিয়ালদহগামী বালিয়া এক্সপ্রেসে ওঠে অভিযুক্ত সঞ্জয়। হুগলির ব‌্যান্ডেল স্টেশন থেকে কলকাতায় যাওয়ার জন্য ওই ট্রেনে উঠেছিলেন অভিযোগকারী চিকিৎসক। তাঁর ব্যাগে ছিল ৬০০ টাকা নগদ। কিন্তু সঙ্গে ছিল এমবিবিএসের শংসাপত্র, কর্মস্থলের পরিচয়পত্র-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি। ট্রেনে উঠেই ব‌্যাগটি বাঙ্কের উপর রাখেন ওই চিকিৎসক। ব‌্যান্ডেল স্টেশন থেকে অভিযুক্ত সঞ্জয় ব্যাপারী ওই ট্রেনে উঠে পুলিশকর্মীর ছদ্মবেশে নজরদারির আড়ালে লক্ষ্য রাখতে শুরু করে যাত্রীদের ব‌্যাগের উপর। তল্লাশি চালানোর নামে দু’একটি ব্যাগ ঘাঁটাঘাঁটিও করে। পুলিশের ছদ্মবেশে থাকায় যাত্রীদের কারোর সন্দেহও করেননি। আর সেই সুযোগে ট্রেন থেকে চিকিৎসকের ব‌্যাগটি হাতিয়ে নৈহাটি স্টেশনে নেমে যায় কুখ্যাত ওই দুষ্কৃতী,। শিয়ালদহ স্টেশনে নামার আগে চিকিৎসক দেখেন, তাঁর ব্যাগ উধাও।

সহযাত্রীরা তাঁকে জানান, ওই ‘পুলিশকর্মী’ একটি ব্যাগ নিয়ে নৈহাটি স্টেশনে মেনেছেন। চিকিৎসক শিয়ালদহ জিআরপিতে জিরো এফআইআর করেন। নৈহাটি জিআরপিতে সেই অভিযোগ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারই ভিত্তিতে নৈহাটি স্টেশনের সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরে ব‌্যাগটি নিয়ে হেঁটে বেরিয়ে যাচ্ছেন সঞ্জয়। এরপরেই তাঁর খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। নৈহাটির বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশ তল্লাশি চালায়। শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত সঞ্জয়কে।

আরও পড়ুন:

রবিবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়। তাঁর জামিনের আবেদন জানান আইনজীবী ইনজামাম। সরকারি আইনজীবী পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানান। দু’পক্ষের বক্তব‌্য শুনে তাঁকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতকে জেরা করে চিকিৎসকের ব‌্যাগটি উদ্ধারের চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *