পুজোর পাস নিয়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। শুধু অর্থ তছরূপ নয়, বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পীর একাধিক কুকীর্তির কথা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে। কাটমানি থেকে বাংলোয় বেআইনিভাবে জলসা, মহিলাদের ‘ভোগ’ করার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগে ফেটে পড়ছেন তাঁরই একসময়ের সতীর্থরা। এবার গায়ককে নিয়ে কার্যত বোমা ফাটালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য। ইন্দ্রনীলের সংস্থায় চাকরি করার সুবাদে তাঁর যেসব নিদারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেসব সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করলেন সুচেতন। বললেন, ‘‘ঔদ্ধত্য ছিল চরমে। পাপ ও কৃতকর্মের ফল ভোগ করছেন। আমার খুব আনন্দ হচ্ছে।”
তাঁর কথায়, ‘‘২০১৩ সালে আমি ইস্তফাপত্র পাঠাই। তাঁর ঔদ্ধত্য এতটাই ছিল যে আমার ইস্তফাপত্র গ্রহণ পর্যন্ত করেননি। সেটা রিসিভ করে আমাকে কপি দেবেন বলে ডেকে পাঠিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে অপেক্ষা করিয়েছেন। নিজে কথা বলেননি, বাকি কর্মীদের দিয়ে বলে পাঠাচ্ছিলেন, অপেক্ষা করতে হবে। ভাবুন কী অপমানজনক! একটা ইস্তফাপত্র সই করতে এতখানি ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন।”
আরও পড়ুন:
কলেজ পাশের পর ২০০৫ সালে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গীত সংস্থায় চাকরি শুরু করেন সুচেতন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন তিনি। ততদিনে রাজ্যে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ফেলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বয়স ২ বছর হয়ে গিয়েছে। একদা বামপন্থাকে সমর্থন করা ইন্দ্রনীল সেন একটু একটু করে তৃণমূল ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে তুলছিলেন। তা টের পেয়েছিলেন সুচেতন। এরপরই তিনি ইন্দ্রনীলের সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কথায়, ‘‘২০১৩ সালে আমি ইস্তফাপত্র পাঠাই। তাঁর ঔদ্ধত্য এতটাই ছিল যে আমার ইস্তফাপত্র গ্রহণ পর্যন্ত করেননি। সেটা রিসিভ করে আমাকে কপি দেবেন বলে ডেকে পাঠিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে অপেক্ষা করিয়েছেন। নিজে কথা বলেননি, বাকি কর্মীদের দিয়ে বলে পাঠাচ্ছিলেন, অপেক্ষা করতে হবে। ভাবুন কী অপমানজনক! একটা ইস্তফাপত্র সই করতে এতখানি ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন।”
সুচেতনের আরও অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের সংস্থায় যে রেকর্ডিস্ট ও অন্যান্য সঙ্গীতশিল্পীরা কাজ করতেন, তাঁরা অনেক সময় ঠিকমতো টাকা পেতেন না। একটা কাজ করানোর পর তাঁদের বেতন দিতেন না ইন্দ্রনীল। একসময়ে সুচেতন নিজের অর্থ থেকে ওই শিল্পীদের কাজের টাকা মিটিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন। সবমিলিয়ে সুচেতন এতটাই ক্ষিপ্ত ছিলেন যে তিনি দলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাবার অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে যেন ইন্দ্রনীল সেন তাঁদের বাড়ির আশেপাশে আসতে না পারেন। এমনকী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণেও তৎকালীন মন্ত্রীকে নিজেদের পাম অ্যাভিনিউর বাড়িতে ঢুকতে দিতে চাননি সুচেতন। সেই ইন্দ্রনীল জেলবন্দি হওয়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সন্তান বলছেন, আমি খুব খুশি। নিজের পাপ আর কৃতকর্মের ফল ভোগ করবেন এবার। আমার মনে হয়, শুধু আমি না, যাঁরা ওঁর দুর্নীতির পরিচয় পেয়েছেন, তাঁরা সকলে আজ খুশি।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
