বুধবার রাতে কার্যত উত্তাল হয়ে রইল উত্তর ২৪ পরগনা। একের পর এক অপরাধ ঘটে চলল জেলার অলিতে গলিতে। মধ্যমগ্রামে শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ককে পয়েন্ট ব্ল্যাক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন। সেই রাতেই পানিহাটিতে চলল দুষ্কৃতী তাণ্ডব। পরপর বোমাবাজিতে কাঁপল পানিহাটির ২ নম্বর ওয়ার্ড। বসিরহাটে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে বচসা হতেই বিজেপি কর্মীকে টার্গেট করে গুলি চলানোর অভিযোগ উঠল।
এই বিষয়ে আরও খবর
তৃণমূল সরকারের মেয়াদ অতীত। দু’দিন পরই নতুন সরকারের শপথগ্রহণ। ঠিক এর মাঝের সময়টায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। পানিহাটির ২ নম্বর ওয়ার্ডে দুষ্কৃতী তাণ্ডবে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় বুধবার রাতে। অভিযোগ, এলাকায় পরপর তিনটি বোমা ছুড়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। বিস্ফোরণে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন জখম হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়দহ থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। পরপর বোমাবাজির ঘটনায় আতঙ্কে সিঁটিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্যদিকে বসিরহাটে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে বচসা। বসিরহাট থানার গোটরা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজীব কলোনি এলাকায় দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রক্তারক্তি কাণ্ড। অভিযোগ, বুধবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা এলাকায় দলীয় পতাকা লাগাতে বচসা শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এলাকায় বিজেপির পতাকা লাগানোয় আপত্তি জানায় তৃণমূলর সমর্থকরা। দু’পক্ষের বচসাই ব্যাপক আকার নেয়। অভিযোগ, আচমকাই গুলি চালানো হয় বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন বিজেপির স্থানীয় কর্মী রোহিত রায় ওরফে চিন্টু। জানা গিয়েছে, তার পেটে গুলি লাগে। আহত কর্মীকে দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বসিরহাট থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, কী কারণে আচমকা গুলি চালানো হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এলাকায় নতুন করে অশান্তি এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্যর অভিযোগ, “নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “বুধবার রাতে দলীয় কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিজেপির পতাকা লাগাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই তাদের উপর হামলা চালানো হয় এবং গুলি করা হয়।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোট-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি ফের সামনে চলে আসছে। বসিরহাট মহকুমার একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
