ঘৃণ্য অপরাধ

ঘৃণ্য অপরাধ

শিক্ষা
Spread the love


ছি ছি ছি! নিন্দা করতে কোনও শব্দই উপযুক্ত নয়। শিক্ষক নিগ্রহের মতো ন্যক্কারজনক আর কী হতে পারে! তার ওপর নিগ্রহে অভিযুক্তরা যদি ছাত্র হয়! গুরুর গায়ে হাত তোলার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা। সর্বশেষ ঘটনাটি মালদা জেলায়। বৈষ্ণবনগর থানার চামাগ্রাম এলাকায়। উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা কাণ্ডটি ঘটিয়েছে। ইংরেজি পরীক্ষার দিন তারা শিক্ষকদের ওপর হামলা করেছে।

শিক্ষকদের ‘অপরাধ’, তাঁরা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছিলেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করছিলেন। পরীক্ষার হলে যাতে কেউ মোবাইল বা অন্য কোনও ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে ঢুকতে না পারে, তাই এই ব্যবস্থা করেছিল সংসদ। কিন্তু চামাগ্রাম হাইস্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাদের আসন পড়েছিল, সেই পরীক্ষার্থীরা তাতে ক্ষিপ্ত হয়। উলটে নকল করতে দেওয়ার অন্যায় আবদার শুরু করে। শিক্ষকরা সেই বেআইনি কাজে প্রশ্রয় না দেওয়ায় তাঁদের ওপর নেমে আসে আক্রমণ।

স্কুলের অফিস-রুমেও হামলা চলে। এমনকি শিক্ষকদের দিকে গরম জল ছুড়ে দেওয়া হয়। নিঃসন্দেহে ওই পড়ুয়ারা পরীক্ষার্থী। এই নবীন প্রজন্ম দেশের ভবিষ্যৎও বটে। কিন্তু তাদের অপরাধ ক্ষমাহীন। প্রথমত, তারা হামলা করেছে শিক্ষক সমাজের ওপর। দ্বিতীয়ত, নকল করার মতো বেআইনি কাজ করতে দেওয়ার অনুমতি চাইছিল ওরা। নিগ্রহের ফলে ৬ জন শিক্ষক জখম হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।

তাঁদের এই ক্ষত শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। পড়ুয়ারা যদি কোনও শিক্ষকের গায়ে হাত তোলে, তবে তার চেয়ে অসম্মান, অপমান আর কিছু হতে পারে না। সেই অসম্মান শুধু আহত ওই ৬ জন শিক্ষকের নয়, গোটা শিক্ষক সমাজের, শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সকলের। শেষ বিচারে অপমান সমাজেরও। নবীনদের সুষ্ঠু শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় আমাদের সকলের। শিক্ষকদেরও। কিন্তু শুধু সেই যুক্তিতে কতিপয় পরীক্ষার্থীর এই অন্যায়কে আড়াল করা যায় না।

বরং মালদা জেলার ঘটনাটি গোটা শিক্ষা জগৎ ও সমাজের পক্ষে অত্যন্ত সতর্কতা বয়ে আনছে। শিক্ষক যদি নিজের ছাত্রের কাছে নিরাপদ না হন, তবে তার চেয়ে উদ্বেগজনক শুধু নয়, লজ্জাজনক আর কী হতে পারে! ভয়াবহ এই ঘটনাটিকে কোনওভাবে লঘু করে দেখা উচিত হবে না প্রশাসনের। পরীক্ষার্থী বলে যেমন সহৃদয়তার সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যত্নবান হতে হবে, তেমনই কড়া পদক্ষেপ করাও জরুরি।

অন্যথায় এরকম বিশৃঙ্খলা করে কেউ পার পেয়ে গেলে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। যাদবপুরে সদ্য শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘিরে হুলুস্থুল ও দুই ছাত্রের আহত হওয়ার ঘটনায় সেইরকম সুদূরপ্রসারী পরিণামের ইঙ্গিত করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারপতি বাংলাদেশের নাম না করে সেই দেশে ছাত্রদের একাংশের অরাজকতার উল্লেখ করেছেন।

বৈষম্য বিরোধিতার নামে আন্দোলনে শামিল একদল পড়ুয়ার উগ্রমূর্তিতে বাংলাদেশে সরকার বদল হয়ে গিয়েছে। নতুন সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েও ক্ষান্ত হয়নি ছাত্র-জনতা। দেশজুড়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদিতে পড়ুয়াদের একাংশ জড়িয়ে পড়ছে বা মদত দিচ্ছে। মালদায় শিক্ষক নিগ্রহের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদের চরম হেনস্তায় অভিযুক্ত হচ্ছে পড়ুয়াদের একাংশই।

বিচারপতি সারকথা বলেছেন, প্রতিবেশী দেশের ওই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভারতে হতে দেওয়া যায় না। সেজন্য প্রশাসনকে কড়া হতে হবে। কিন্তু একা প্রশাসনের পক্ষে গোটা ছাত্র সমাজকে শিক্ষক নিগ্রহের মতো অপরাধ থেকে নিবৃত্ত করা অসম্ভব। সেজন্য চাই পড়ুয়াদের সচেতনতা। সেই সচেতনতা সৃষ্টির মূল দায় সমাজের। আমার-আপনার। শিক্ষকদেরও। স্কুল স্তরে ছাত্রদের সুষ্ঠু মানসিক বিকাশে সহযোগীর ভূমিকা নিতে হবে তাঁদের। নকলের মতো অন্যায় করে পাশ করার মানসিকতাকে নস্যাৎ করার জন্য সচেতনতা চাই সমাজের, অভিভাবকদের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *