পর্তুগাল: ২ (রোনাল্ডো-পেনাল্টি, র্যামোস)
ক্রোয়েশিয়া: ১ (পেরিসিচ)
দুই অভিন্নহৃদয় বন্ধু। একটা স্বপ্ন অপূর্ণ দু’জনেরই। সেই অধরা মাধুরীর লক্ষ্যে টিকে থাকবেন কে? ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো না লুকা মদ্রিচ-কার লাস্ট ড্যান্স শেষ হবে আজ? সেটা দেখতেই শুক্রবার ভোরে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ শুরু করল পর্তুগাল। প্রথম ১০ মিনিট বলা যেতে পারে ক্রোটদের খুঁজেই পাওয়া যায়নি। এই সময়টাতেই দু’টো অনবদ্য সুযোগ এসেছিল রাফায়েল লিয়াওদের সামনে। এদিন বিশ্বকাপের ইতিহাসে বয়ষ্কতম হিসাবে নকআউট ম্যাচ খেলার নজির গড়লেন রোনাল্ডো। তবে প্রথমার্ধে তাঁর পারফরম্যান্সেও কিছুটা বয়সের থাবা ধরা পড়ল। উড়ে আসা ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে দেরি। বিশ্বকাপে প্রথম নকআউট গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলেন সিআর সেভেন।
গোল নষ্টের তালিকায় নাম তুলে ফেললেন ব্রুনো ফার্নান্ডেজও। সেই সুযোগেই ম্যাচে ফিরলেন মদ্রিচ। প্রথম ৪৫ মিনিট ধরে সেভাবে আক্রমণ করতে দেখা যায়নি ক্রোয়েশিয়াকে। তবে রক্ষণটা দুর্দান্ত জমাট করে রাখলেন জসিপ সুতালোরা। পর্তুগালের একের পর এক সুন্দর অ্যাটাক ব্যর্থ হতে লাগল। প্রথমার্ধের শেষে ম্যাচের ফলাফল ০-০। তবে ততক্ষণে নড়বড়ে দশা কাটিয়ে ফেলেছে ক্রোয়েশিয়া। সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দিচ্ছে পর্তুগালকে।
বিরতির পর খেলায় গতি আনল দুই দলই। ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলটাকে পুরোপুরি দলগত প্রচেষ্টার ফল বলা যেতে পারে। দারুণ ক্রসের পাশাপাশি ডিফেন্ডারদেরও টেনে আনলেন স্ট্যানিসিচ। সেই পাসে পা ছুঁইয়ে গোল। এগিয়ে যাওয়ার মিনিট দুয়েকের মধ্যে ক্রোটদের দ্বিতীয় গোল বাতিল হল অফসাইডে।
৬৩ মিনিটে একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন করলেন রবার্তো মার্টিনেজ। তাতেই এক লহমায় বদলে গেল পর্তুগাল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রোনাল্ডোর অনবদ্য গোল, তবে বাতিল হল সামান্য অফসাইডে। তখন ফের মাঠজুড়ে পর্তুগালের দাপট। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি মারতে এতটুকু ভুল হল না। বিশ্বকাপ নকআউটে প্রথমবার গোল করে দলকে সমতায় ফেরালেন সিআর সেভেন। তারপর যথার্থ টিমম্যানের মতো মাঠ ছাড়লেন দলের স্বার্থে। রোনাল্ডোর পরিবর্ত হিসাবে নামা গন্সালো র্যামোসের পা থেকে এল ম্যাচের নির্ণায়ক গোল। ৯৪ মিনিটের সেই গোলেই লেখা হয়ে গেল লুকা মদ্রিচের বিদায়। বিশ্বকাপে এখনও ভেসে রইলেন রোনাল্ডো, অধরা স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে।
সর্বশেষ খবর
