‘গুন্ডাদমন বিলে’ লুটের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তই সরকারের লক্ষ্য! কী রয়েছে বিলের খসড়ায়

‘গুন্ডাদমন বিলে’ লুটের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তই সরকারের লক্ষ্য! কী রয়েছে বিলের খসড়ায়

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


তৃণমূলের জমানায় রাজ্যজুড়ে লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি ছোট-বড় বহু তৃণমূল নেতা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের রাতারাতি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগও উঠেছে। তল্লাশিতে তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশের হাতে উদ্ধার হয়েছে চোখ ধাঁধানো সুবিশাল বাড়ি, বিপুল ব্যাঙ্ক আমানত, আলমারি ও লকারভর্তি সোনাদানা-সহ নানা মূল্যবান সম্পদ। এই আবহেই সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’, যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। বিধানসভা সূত্রের খবর, বিলটি আইনে পরিণত হলে অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থাও কার্যকর করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তবে এই আইন কবে থেকে কার্যকর হবে এবং এর প্রয়োগের সময়সীমা কী হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে আইনজ্ঞদের।

সোমবার বিধানসভায় এই বিল পাস করিয়ে লুটের সম্পত্তি উদ্ধার করাও সরকারের লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন:

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই কীভাবে তৃণমূল নেতারা বেআইনিভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, তা নিয়ে বারবার প্রকাশ্যে তোপ দাগছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘‘কাউকে ছাড়া হবে না’’ বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুধু কথা নয়, এবার এই বিষয়ে কড়া আইন এনে সেই পথেই হাঁটছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিধানসভায় এই বিল পাস করিয়ে লুটের সম্পত্তি উদ্ধার করাও সরকারের লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে। বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ বা জরিমানা চাপাতে পারে। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে যে আইন রয়েছে তা অন্তত এই বাংলায় আইনের শাসন কায়েম করে রাখার পক্ষে যথেষ্ট নয়। বিলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কারণ তৃণমূল জমানায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, গুন্ডামি যে চরম মাত্রায় পৌঁছেছিল তা ঠাণ্ডা করতে বাড়তি দাওয়াই দরকার। প্রস্তাবিত নতুন বিল হল সেই দাওয়াই।

বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বা মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে, এমন সব কাজই সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞার মধ্যে আনা যাবে। এর মধ্যে রাখা হয়েছে-শৃঙ্খলা নষ্ট করা, মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, আইনসম্মত ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনি ভাবে কারও স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দখল করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা, খনি, বালি, পাথর বা প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনি ভাবে উত্তোলন করা, বন্যপ্রাণী বা বনজ সম্পদের ক্ষতি করা। অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক হিংসা নয়, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট, বেআইনি খনি বা বালি কারবার, সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসায় বাধা—সবকিছুকেই এই আইনের আওতায় আনার রাস্তা খুলে রাখা হয়েছে। ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও আলাদা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেখানে খসড়ায় লেখা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি নিজে, অথবা কোনও দল, গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে অভ্যাসগতভাবে সমাজবিরোধী কাজ করলে তাকে ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। যে কেউ অস্ত্র আইন, মাদক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন, বিস্ফোরক আইন বা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট গুরুতর ধারায় অপরাধ করলে, অথবা এই ধরনের অপরাধে যুক্ত থাকার চেষ্টা করলে, তাকে এই আইনের অধীনে আনা যাবে। এর ফলে শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর নয়, অপরাধের সম্ভাবনা বা পুনরাবৃত্তি রোখার জন্যও পুলিশ ও প্রশাসন আগাম ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই আইনটিকে ‘কালা কানুন’ বলেই মনে করছে বিরোধীরা। বিরোধীদের সরকার বিরোধী আন্দোলনকে দমন করতেই এই আইন বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *