গরমের ছুটিতে আটকে প্রক্রিয়া! হাই কোর্ট খুললেই ধৃত কর্মীদের জামিনের লড়াইয়ে তৃণমূল

গরমের ছুটিতে আটকে প্রক্রিয়া! হাই কোর্ট খুললেই ধৃত কর্মীদের জামিনের লড়াইয়ে তৃণমূল

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


ভোট পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দলের নেতা-কর্মীদের যেতে বলেছিল দলীয় নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে দলের আইনজীবীদের নিয়ে একটি কমিটি গড়তে হবে বলে নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতৃত্বকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কর্মীরা কোথাও কোনও মামলায় ফেঁসে গেলে তাঁদের পাশে দাঁড়াবে এই কমিটি। সেই কমিটির কাছে ইতিমধ্যে অসংখ‌্য জামিনের মামলার আবেদন এসে জমা পড়েছে। কলকাতা হাই কোর্টে এখন গ্রীষ্মকালীন অবকাশ চলছে। কোর্ট খুললেই সেইসব আবেদন নিয়ে আইনি লড়াই শুরু করে দেবে তৃণমূল। ইতিমধ্যে সেই প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে।

এই বিষয়ে আরও খবর

কী ধরনের মামলার প্রস্তুতি হচ্ছে? ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের ইস্যুতে মূলত ২০২১ সালের পরবর্তী পরিস্থিতিকে সামনে রেখে পুরনো মামলা নতুন করে খোলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিজেপির অভিযোগ, গত বিধানসভা ভোটের সময় শাসকদলে থাকার সুবাদে তৃণমূল যে জোরজুলুম করেছে তার জেরে অনেক মামলা করা যায়নি। সেইসব মামলা নতুন করে নথিবদ্ধ হচ্ছে। তৃণমূলের আইনজীবী সেলের অভিযোগ, এই সুযোগে অসংখ্য ভুয়া মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেছে তৃণমূল। এ নিয়ে আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের কাছে আবেদন করেছেন, যে যেখানে এই ধরনের মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন সেই সংক্রান্ত নথি তাঁকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক। গ্রীষ্মকালীন অবকাশের শেষে আদালতে প্রত্যেকের হয়ে জামিনের আবেদন জমা পড়বে। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষেই শেষ হচ্ছে গরমের ছুটি। তার পরই পরপর জামিনের মামলার আবেদন নিয়ে লড়াই শুরু হবে আদালতে।

আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের কাছে আবেদন করেছেন, যে যেখানে এই ধরনের মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন সেই সংক্রান্ত নথি তাঁকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক। গ্রীষ্মকালীন অবকাশের শেষে আদালতে প্রত্যেকের হয়ে জামিনের আবেদন জমা পড়বে।

কল্যাণ এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তৃণমূলের কর্মীদের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের অভিযোগ করেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। লিখেছেন, ‘রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, পুলিশের একটি অংশ বিজেপি নেতৃবৃন্দ ও বিধায়কদের প্ররোচনায় কাজ করে অনেক ক্ষেত্রে নিরীহ কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে গ্রেফতার করছে। কোথাও কোথাও তাঁদের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে কিংবা কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরানো হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক সমাজে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং পুলিশি বর্বরতারই পরিচয় বহন করে।’

কল‌্যাণের বক্তব্য, ‌‌‘যাঁরা এখনও জামিন পাননি এবং দীর্ঘদিন ধরে জেল হেফাজতে রয়েছেন, তাঁদের সহকর্মী, পরিবার-পরিজন বা শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আমার অনুরোধ, সংশ্লিষ্ট এফআইআরের কপি এবং আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমি আমার সামর্থ্য ও সাধ্যের মধ্যে থেকে আপনাদের পক্ষে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসন রক্ষার প্রশ্নে আমরা ন্যায়সঙ্গত আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাব।’

এই ধরনের পরিস্থিতিকে রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট ‘টেরর’ বলে ব্যাখ্যা করছেন কমিটির আরেক সদস্য আইনজীবী বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তিনিও জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে, এমনকী, সরাসরি তাঁদের কাছেও বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা সংক্রান্ত নথি এসে পৌঁছচ্ছে। দলের কর্মীরা জামিনের আবেদন করছেন। কিন্তু সুরাহা না মেলায় আইনজীবীদের এই কমিটির দ্বারস্থ হচ্ছেন। সেইসব আবেদন নিয়ে কোর্ট খুললেই লড়াই শুরু হবে আদালতে।

এই বিষয়ে আরও খবর

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *