ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি, ‘মিটিংয়েই যাইনি, ভূতে সই করল?’ বিস্ফোরক বাহারুল

ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি, ‘মিটিংয়েই যাইনি, ভূতে সই করল?’ বিস্ফোরক বাহারুল

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


স্বাক্ষর বিতর্কে পরপর তৃণমূল বিধায়কদের বাড়িতে হানা সিআইডির। বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতেও পৌঁছে যায় সিআইডির আরও একটি দল। সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতার রেজোলিউশনে করা স্বাক্ষর আদৌ বাহারুলের কিনা, তা জানতেই বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে যান সিআইডির গোয়েন্দারা। আর সেখানেই উঠে আসে বিস্ফোরক তথ্য। সিআইডির সামনেই বিস্ফোরক দাবি করেন বাহারুল ইসলাম। তিনি জানান, “৬ই মে আমি বাড়ি থেকেই বের হইনি। তাহলে আমার সইটা কি ভূতে করল?”

এই বিষয়ে আরও খবর

৪ মে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ১৫ বছরের শাসকদল থেকে বিরোধী দলের তকমা পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কে হবেন বিরোধী দলনেতা? সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক একদিন পরে অর্থাৎ ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে নব নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন মমতা-অভিষেক। সেই বৈঠকের পরেই সর্বসম্মতিক্রমে বিধাসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম পেশ করে তৃণমূল কংগ্রেস।

বাহারুল ইসলাম দাবি করেন, ৬ মে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির মিটিংয়ে উপস্থিতই ছিলেন না। তাঁর দাবি, ভোট পরবর্তী হিংসার জন্য ওই দিন তিনি সারাদিন ভাঙড়ের বাড়িতেই ছিলেন। “যদি মিটিংয়েই না যাই, তাহলে সইটা ভূতে করল?” প্রশ্ন বাহারুল ইসলামের।

বিরোধী দলনেতার নামের সপক্ষে রেজোলিউশনে স্বাক্ষর নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির দায়ের করা মামলার তদন্তে নামে সিআইডি। বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে দায়ের হয় মামলা। সেই তালিকায় রয়েছেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলাম। অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডি। বিরোধী দলনেতার রেজোলিউশনে স্বাক্ষর নিয়ে আধিকারিকরা জিজ্ঞাসা করতেই বাহারুল ইসলাম দাবি করেন, ৬ মে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির মিটিংয়ে উপস্থিতই ছিলেন না। তাঁর দাবি, ভোট পরবর্তী হিংসার জন্য ওই দিন তিনি সারাদিন ভাঙড়ের বাড়িতেই ছিলেন। “যদি মিটিংয়েই না যাই, তাহলে সইটা ভূতে করল?” প্রশ্ন বাহারুল ইসলামের।

বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের অভিযোগ, “পুরো দলটাই জালি। সম্মতিপত্রে কি তাহলে বিধায়করা সই করতে চাননি? ১৫ বছর ধরে তাহলে কত জাল সই হয়েছে।”

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে টানাপোড়েন ছিলই। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেটারহেডে বিরোধী দলনেতার নাম লিখে বিধানসভায় পাঠানোয় জটিলতা আরও বাড়ে। নিয়ম অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতার নাম স্থির করে সম্মতি স্বরূপ সব বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে একটি রেজোলিউশন জমা দিতে হয় বিধানসভায়। সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখে সেই রেজোলিউশন বিধানসভার স্পিকার গ্রহণ করলে তবেই বিরোধী দলনেতা তাঁর মর্যাদা পান বিধানসভায়। সেই রেজোলিউশনে স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাইয়ে যেতেই সিআইডির কাছেই তৃণমূল বিধায়ক নিজেই তাঁর সই জাল করার অভিযোগ তুললেন। একরকম দলের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি। বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের অভিযোগ, “পুরো দলটাই জালি। সম্মতিপত্রে কি তাহলে বিধায়করা সই করতে চাননি? ১৫ বছর ধরে তাহলে কত জাল সই হয়েছে।” সূত্রের খবর, এদিন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও যান সিআইডি আধিকারিকরা।

এই বিষয়ে আরও খবর

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *