কেন পর্তুগাল ছাড়লেন? কোচের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র খতিয়ান দিয়ে নিজের শাস্তি চাইলেন রোনাল্ডো

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


কোচের সঙ্গে ঝামেলায় আচমকা পর্তুগাল শিবির ছেড়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। দু’দশকের বেশি সময় ধরে দেশের জন্য লড়াই করেছেন। ইউরো কাপ, নেশনস লিগ জিতেছেন। তিনি হঠাৎ ‘অপমানিত’ হয়ে পর্তুগাল শিবির কেন ছাড়লেন? কী করেছেন কোচ জর্জে জেসুস? রোনাল্ডো কি নীরবে অবসরে চলে যাবেন, নাকি ফিরবেন? অবশেষে কথামতো ‘সত্যি’টা জানালেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বার্তায় জানালেন, তাঁর সঙ্গে কীভাবে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাইলেন নিজের শাস্তিও।

নরওয়ের বিরুদ্ধে নেশনস লিগের শেষ ম্যাচে পর্তুগাল কোচ জর্জে জেসুস মাঠে নামাননি রোনাল্ডোকে। মাঠে নামানোর জন্য ওয়ার্মআপ করানোর পরও তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি। ডেনমার্কের বিরুদ্ধেও তাঁকে রিজার্ভ বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর তিনি শিবির ছেড়ে বেরিয়ে যান। মাদ্রিদ হয়ে চলে যান সৌদি আরবে নিজের ক্লাব আল নাসেরে। এদিকে জর্জে পরে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “আমি কোচ, কাকে খেলাব সেটা আমার ব্যাপার। আমি রোনাল্ডোকে বলেছিলাম, দু’ম্যাচে খেলবে না। রোনাল্ডো চাইলে ওর খারাপ লাগার বিষয়ে কথা বলতে পারত। তাতে অবশ্য আমার সিদ্ধান্ত বদলাত না।” আর সিআর৭-ও তোপ দাগেন, সঠিক সময়ে সত্যিটা প্রকাশ্যে আনবেন।

আরও পড়ুন:

অবশেষে সেই ‘সত্যি’ প্রকাশ্যে আনলেন। বিশ্বকাপের পর থেকে ঘটনা পরম্পরা জানালেন রোনাল্ডো। তিনি লিখেছেন, বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিলেন। কিন্তু আমেরিকা থেকে ফেরার পথে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেন। তাছাড়া বর্তমান কোচ জর্জে জেসুসকে নিয়োগ করা হবে কি না, সেই নিয়েও মতামত চান। রোনাল্ডো এতে খুশি হন। এরপর কোচের সঙ্গেও কথা হয়। কিন্তু তাতে জর্জে প্রস্তাব দেন, ফিটনেসের কথা মাথায় রেখে রোনাল্ডোকে বিদেশের ম্যাচে নিয়ে যাওয়া হবে না। তিনি এই প্রস্তাবে রাজি হননি, কারণ তিনি পর্তুগালের অধিনায়ক। এই পুরো আলোচনার সাক্ষীও আছে।

এরপর ওয়েলসের বিরুদ্ধে ম্যাচে রোনাল্ডো শুরু করেন। পরে তাঁকে বসিয়ে দিলেও দলের জয়ে খুশি হয়েছেন বলে জানান। কিন্তু নরওয়ের বিরুদ্ধে হোম ম্যাচের আগে কোচ জানান, তাঁকে মাত্র ৩০ মিনিট খেলানো হবে। চমকে গেলেও তিনি রাজি হয়ে যান। এরপর ম্যাচে কী ঘটেছে সবাই জানেন। ওয়ার্মআপ করলেও তাঁকে শেষ পর্যন্ত নামানো হয়নি। ওই ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই রোনাল্ডো মাঠ ছাড়েন। এটা তিনি ভুল করেছেন এবং তার জন্য তিনি পর্তুগালের মানুষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

Cristiano Ronaldo breaks silence over Portugal national team walkout in statement
জর্জে জেসুস (বাঁদিকে) ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

এর ৪৮ ঘণ্টা পর কোচের সঙ্গে মিটিং হয়। সেখানে ঠিক হয়, কোচ সাংবাদিক সম্মেলনে জানাবেন, রোনাল্ডোকে ওয়ার্মআপ করিয়েও মাঠে না নামানো ভুল ছিল। জর্জের সমস্ত কথা রোনাল্ডো নথিবদ্ধ করে রেখেছিলেন। ৪২ বছর বয়সি মহাতারকা তবু বলেছিলেন, যদি তাঁকে দলে না চান, তাহলে বলে দিন। কিন্তু জর্জে সেটা বলেননি। কিন্তু সাংবাদিক সম্মেলনে কোচ সম্পূর্ণ অন্য কথা বলেন। যা রোনাল্ডোর কাছে বিশ্বাসঘাতকতার সমান। রোনাল্ডো কোচের সিদ্ধান্তে কখনও হস্তক্ষেপ করেননি, তবে ‘বেইমানি’ মেনে নিতে পারেন না। এরপর জর্জের সঙ্গে আলোচনার কথাবার্তা তুলে দিয়েছেন। সেখানে তাঁর কৃতিত্ব, দেশের প্রতি ভালোবাসা, কোচের প্রতি শ্রদ্ধার কথা জর্জে স্বীকার করে নিয়েছেন।

তারপর রোনাল্ডো লিখেছেন, ‘আমি যা করেছি, পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের উচিত সেটার মূল্যায়ন করে আমাকে শাস্তি দেওয়া। সেই শাস্তি কোনওভাবে কমানো উচিত নয়। আমি শুধু একজন সাধারণ ফুটবলার নই, দেশের অধিনায়কও। নিয়ম সবার জন্য সমান।’ এরপর জানান, দেশের হয়ে আরও ম্যাচ খেলতে চান। পর্তুগালকে সব দিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পরও জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়েননি। এরপর নিজের বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে মুখ খোলেন। ফেডারেশন যদি চায়, তাহলে এক বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলতে চান। আপাতত জাতীয় দলেই মনোনিবেশ করতে চান।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *