মরক্কো: ৩ (আজেদিন, রহিমি)
কানাডা: ০
সেদেশে ‘হিকায়াত’ নামে গল্প বলার ঐতিহ্য হাজার বছরের পুরনো। মারাক্কেশ শহরের ‘জেমা এল-ফনা’ স্কোয়ারে গোল হয়ে বসে গল্প বলেন কথকরা। দৃঢ় বিশ্বাস, বিশ্বকাপে মরক্কোর এই উত্থানের কাহিনিও একদিন হিকায়াতের অংশ হবে। সাইবারি, দিয়াজ, হাকিমির মতো বীরপুঙ্গবদের নাম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের মুখে মুখে ফিরবে। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা চলতি বিশ্বকাপেও অপ্রতিরোধ্য। আজেদিনের জোড়া গোলে কানাডার স্বপ্নের সফর শেষ হল। ৩-০ গোলে জিতে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসাবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল মরক্কো।
আরও পড়ুন:
Morocco safe their place within the final eight! 💫#FIFAWorldCup
— FIFA World Cup (@FIFAWorldCup) July 4, 2026
আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় কানাডা। শক্তিশালী মরক্কোর বিরুদ্ধে ‘দ্য রেডস’ যে এমন দাপট দেখাবে, তা অনেকেই আশা করেননি। প্রেসিং ফুটবল, ঝটিকি আক্রমণ এবং একের পর এক সুযোগ তৈরি করে মরক্কোর রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয় উত্তর আমেরিকার দলটি। তবে কোনও তাড়াহুড়ো করেনি ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’। তাদের গোলকিপার ইয়াসিন বোনো ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। চতুর্থ মিনিটেই প্রথম কর্নার পায় কানাডা। পরের মিনিটেই জনাথন ডেভিডের সামনে ম্যাচের সেরা সুযোগ আসে। ডি ফুজেরোলেসের হেড থেকে পাওয়া বল শট নিলেও বাঁচান মরক্কোর গোলকিপার।

এরপরও থামেনি কানাডার দৌড়। ষষ্ঠ মিনিটে টানা দু’টি কর্নার পেলেও তা ফলপ্রসূ ছিল না। ১১ মিনিটে আলি আহমেদের বল থেকে ওলুওয়াসেইয়ের জোরাল শটও বাঁ-পায়ে ঠেকিয়ে দেন বোনো। শুরুতে মরক্কো নিজেদের অর্ধেই আটকে পড়েছিল। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তারা। বলের দখল বাড়িয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে। কিন্তু কানাডার রক্ষণ কিছুতেই ভাঙতে পারেনি। ২৯ মিনিটে মরক্কো প্রথমবার গোলমুখী শট নিলেও এলেও ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত। তবে মাঝপথে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইসমাইল সাইবারি। বদলি হিসেবে নামেন রহিমি। অন্যদিকে, কানাডা লং থ্রো এবং কর্নার থেকে একাধিকবার চাপ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি।
প্রথমার্ধে দুই দলের মোট ছয় ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখান রেফারি মাইকেল অলিভার। ২০ মিনিটে হালহাল, ৩৯ মিনিটে আশরাফ হাকিমি ও রিচি লারিয়া, ৪৩ মিনিটে জনাথন ডেভিড, ৪৫ মিনিটে আজেদিন উনাহি এবং অতিরিক্ত সময়ে এল খান্নুস। আক্রমণে বেশি সক্রিয় ছিল কানাডা। অনেক বেশি সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। যদিও ৬৭ শতাংশ বল দখলে ছিল মরক্কোর। আর গোলরক্ষক বোনোর বিশ্বস্ত দস্তানায় বড় বিপদ এড়িয়ে স্বস্তিতে বিরতিতে যায় মরক্কো।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় মরক্কো। ৫০তম মিনিটে আজেদিন ওউনাহির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। ফ্রিকিক থেকে বল পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শটে কানাডার জালে বল জড়ান তিনি। ৫৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ তৈরি করেছিল ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’। আচরাফ হাকিমি সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৫৯তম মিনিটে টানা দু’টি কর্নার পেলেও মরক্কোর রক্ষণ ভাঙতে পারেনি কানাডা। ৬২তম মিনিটে মরক্কো একসঙ্গে দু’টি পরিবর্তন আনে। এল খানোস ও বুয়াদ্দির পরিবর্তে মাঠে নামেন সোফিয়ান আমরাবাত ও তালবি। এর এক মিনিট পর কানাডাও পরিবর্তন এনে ওলুওয়াসেইর পরিবর্তে কাইল লারিনকে মাঠে নামায়। এরপর বারবার আক্রমণে গেলেও লাভের লাভ কিছু হয়নি।
Soufiane Rahimi purpose for Morocco vs Canada | Morocco vs Canada | FIFA World Cup#FIFAWorldCup #CANMAR pic.twitter.com/iOUY6Opthb
— Statpad Soccer Clips (@Tekkerzball) July 4, 2026
৮২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান আজেদিন। মাঝমাঠ থেকে তালবির বাড়ানো পাস থেকে আক্রমণে যান ব্রাহিম দিয়াজ। নিখুঁত টোকায় বল বাড়িয়ে দেন আজেদিনের উদ্দেশে। চলতি বলে দারুণ এক শটে জাল কাঁপান। তবে তখনও নাটক বাকি। গোল শোধে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় কানাডা। কিন্তু তাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেয় মরক্কোর রক্ষণ। এরপর যোগ করা সময়ে পালটা আক্রমণে তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করে মরক্কো। এবারও দিয়াজের বাড়ানো পাস থেকেই গোল করেন রহিমি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
