কবিতা – Uttarbanga Sambad

কবিতা – Uttarbanga Sambad

শিক্ষা
Spread the love


পথের খোঁজে

পবিত্রভূষণ সরকার

 

রাজনীতির রং মেখে সং সেজে

কেনো দাও হুংকার

বইপত্র পড়ে নিজেকে সংযত করো

দেখবে কেমন ফুলের পাপড়ি মেলবে

চারিদিক সুগন্ধে ভরে যাবে

এ জীবনের দাপাদাপি অচিরে বিলীন হবে

সব অহং মিলিয়ে যাবে গঙ্গার জলে

শুধু ঠুনকো গৌরব

শুধু নাম কেনার কসরত

এগুলোকি তোমায় মানায়

এটা কি জীবন?

শুধু ভোগ-লালসার কাতর আবেদন

তার চেয়ে ভালো – বরং পাহাড়ি পথে গুহায় ভ্রমণ

পথের খোঁজে পথ পাবে এক স্বচ্ছ চেতনায়

তোমার হৃদয় জেগে উঠবে নতুন কলতানের মেলায়।

 

নবান্ন দিন

আভা সরকার মণ্ডল 

 

কার্তিক সন্ধ্যায় মেঠো পথের আমন্ত্রণে

জোছনা হয় মন

ছাদের কার্নিশে জমে থাকা শিশিরে মুখ রাখে

শুক্লা দ্বিতীয়া তিথি

ভালো হোক, আলো হোক— বলে

গেয়ে ওঠা পাখির বুকে ধান রঙের ঘ্রাণ—

দু’চোখে সোনালি উৎসব!

নবান্ন দিন— ফসল কাটার ধুম

কোলে-কাঁখে, বুকে-পিঠে আমনের জৌলুস

মাথায় তার শাশ্বত সৌন্দর্য মুকুট!

সব দেখেশুনে

ইট-কাঠ-পাথরের ফাঁক গলে ঢুকে পড়া

আলগা মায়াও হঠাৎ

বাঁধন হতে চায়…

 

উপসংহার 

নবনীতা সরকার 

 

ভেজা পাতার গায়ে লিখেছি কৈশোরের গান

অস্তমিত সন্ধ্যায়,

এক আকাশ তারার নীচে দাঁড়িয়ে

যৌবনের আপামর পাপ-পুণ্য-ক্লেশের বিবরণ টাঙিয়েছি

রাতের নির্জনতায়,

নিজেকে নিঙড়ে শূন্য গর্ভগৃহে জ্বালিয়েছি

রক্তিম অগ্নিশিখা।

এসব নিয়মের বোধিবৃক্ষ

একটু একটু করে

আমার জীবনের নিঃশর্ত স্বরলিপি

এঁকেছে বারংবার,

ঢেউ এসে মুছে দিয়ে গেছে

অকিঞ্চিৎকর আশ্রয়

বিশ্বাসের নাভিমূলে

নেমে এসেছে অবিমিশ্র বঞ্চনার হাতছানি…

অতঃপর বিস্তর হিসেব-নিকেশ শেষে

দক্ষিণের খোলা বারান্দায় মেলে রেখেছি

আগামীর উপসংহার।

বুঝেছি… যেটুকু না দিলে নয়

সেটুকু দিয়ে দিতে হয়।

 

রসদ

বিশ্বজিৎ মজুমদার

 

অনিবার্য কিছু ভাবনা

এমনভাবে লেগে থাকে

যার শুরুটা মেঘের পুচ্ছ ধরে

ভেসে চলে অনাদিকাল

যেমন উৎস হতে নদী

মোহনার দিকে যায়

লেখনীর তীব্রতায় যেভাবে

শব্দ হয়ে ওঠে মহাশক্তিশালী

কোনো বিপন্ন দিন থেকে

একটু একটু করে

অভাবী মনে রসদ জোগায়।

 

বিষাদ বসন্ত

বীণা মোদক চৌধুরী

 

আনিঃশেষ রয়ে যায় সুখ দুঃখের চাকা,

গাঢ় অন্ধকারে ঢাকা যাপনের রসায়ন।

নিভু নিভু জ্বলন্ত প্রদীপ দপ করে নিভে গেলে,

প্রয়োজনের রসদ আবশ্যিক আয়োজন।

যে সামুদ্রিক ঝড় আছড়ে পড়ে তটে,

সম্মুখীন বিশাল পাথর, পাহাড় সারি সারি।

শরীর ঢাকা আলোয়ানের ভেতরের উষ্ণতা

ভাঙতে পারেনি বরফ, তুষার রহে জারি।

দৃঢ় সংকল্প কর্তব্যের পথ সীমাহীন,

সফলতার উত্তরণে থেমে যায় কুহুতান।

রক্তিম পলাশের আগুন, ঝরা পাতার ক্রন্দন

চৈত্রের চিতায় পুড়তে দেখেছি বসন্তের অবসান।

 

পরিচয়

সোমনাথ গুহ

 

আমার শহরের রাজপথ জুড়ে তিনচাকা

পুরোনো রেলগাড়ি পড়ে থাকে দায়সারা

ধারে ধারে মৃত ত্রিফলা

অজস্র জারুলের ফাঁকে এখনো লুকায়

তুমি খুঁজতে গিয়েছিলে শহর

আমাদের

ভালো নেই

নেশাতুর কদমতলা।

 

যদি ফিরে পায়

রবীন্দ্রনাথ রায়

 

হ্যাঁ, আপনি ঠিক শুনেছেন,
হৃদয় ছিঁড়ে গেছে, নিঃশব্দ কাঁদছে—

পায়ের নীচে ভগ্ন কাচ,
চুপচাপ আকাশ, ঝুলছে পৃথিবী —

শেকড়ের নীচে শূন্যতা
তবুও জন্মায় ঘাস–

মৃত্যু করে নৃত্য নামহীন দেহে
যে নিজের ছায়াকে চেনে না আর—

শিশুরা হাঁটছে ছোট-ছোট পায়ে,
মেঝেতে খেলনা ভাঙে স্বপ্নের ভেতর—

শেষ চেষ্টা, নিশ্চল বাতাসে,
যদি একটি স্বপ্ন ঝরে,

ফিরে পায় এই মাটিকে আবার।

 

 

 

 

 

The submit কবিতা appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *