আইপিএলের একেবারে বিজনেস এন্ডে এসে কেকেআর শিবিরে যেন কিছুটা হাহুতাশ! ওয়াংখেড়েতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে বড় রান তোলার পরও হার। ঘরের মাঠে লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া! দু’টোর মধ্যে অন্তত একটাতেও জিতে থাকলে প্লেঅফের দৌড়ে আরও ভালোভাবে থাকা যেত! যদিও এখন কেকেআর দৌড়ে নেই, সেটা একেবারেই বলা যাচ্ছে না। সোমবার চেন্নাই সুপার কিংসের হারের পর সেই রাস্তা খুলে গিয়েছে। কেকেআর যদি শেষ দু’টো ম্যাচ জেতে, আর পাঞ্জাব কিংস, রাজস্থান রয়্যালস একটা করে ম্যাচ হারে, তাহলেই প্লেঅফে চলে যাবে নাইটরা! কিন্তু তার আগে শর্ত একটাই নিজেদের দু’টো ম্যাচে জিততে হবে!
এই বিষয়ে আরও খবর
কিন্তু সমস্যা হল, বুধবার ইডেনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে জীবন-মৃত্যুর ম্যাচে নামার আগে কেকেআর খুব একটা স্বস্তিতে থাকতে পারছে না! নিলামে আঠারো কোটি দিয়ে নেওয়া হয়েছিল মাথিশা পাথিরানাকে। পুরো টুর্নামেন্টে চোটের জন্য প্রায় মাঠের বাইরেই কাটিয়ে দিলেন। আগের দিন তবু নেমেছিলেন। কিন্তু মাত্র আট বল করে চোট নিয়ে ফের মাঠ ছাড়েন। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে তাঁর খেলার যে কোনও সম্ভাবনা নেই, সেটা এখনই লিখে দেওয়া যায়। একইরকম সমস্যা আর এক বোলিং অস্ত্র বরুণ চক্রবর্তী নিয়েও। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচে পায়ে চোট পেয়েছিলেন। তারপর একটা ম্যাচ খেলানো হয় তাঁকে। সেটা করতে গিয়ে আবার বোর্ডের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে কেকেআর ম্যানেজমেন্টকে। বলাবলি চলছে, কেন ঝুঁকি নিয়ে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলাবে! এদিন বরুণ প্র্যাকটিসে এসেছিলেন ঠিকই। কিন্তু আলাদা গাড়িতে মাঠ ছাড়লেন। ইডেন থেকে বেরোনোর সময়ও দেখা গেল, বরুণ হালকা খোড়াচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে বরুণকে খেলানো হবে কি না, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। যদিও কেকেআর ম্যানেজমেন্টের কেউ কেউ বলছিলেন, শেষপর্যন্ত একটা চেষ্টা করা হবে। কারণ টুর্নামেন্টে ভেসে থাকতে গেলে বুধবার জেতা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। মুম্বইয়ের কাছে হারের অর্থ আইপিএল শেষ নাইটদের। সেক্ষেত্রে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ স্রেফ নিয়মরক্ষার ছাড়া আর কিছু হবে না! পাথিরানা না থাকায় রভম্যান পাওয়েল ফিরছেন।

তবে এটাও ঠিক এত নড়বড়ে মুম্বইকে আইপিএলে আর কখনও পাওয়া যাবে কি না খুব সন্দেহ। সূর্যকুমার যাদব একেবারে রানের মধ্যে নেই। দলের সেরা পেস অস্ত্র জশপ্রীত বুমরাহ বেশ অফ ফর্মে। রোহিত শর্মা, রায়ান রিকেলটনরা রান করছেন ঠিকই। কিন্তু টিমটা ধারাবাহিতভাবে খেলতে পারছে না। কারও কারও মনে হচ্ছে অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া নিয়ে কিছু সমস্যা থাকতে পারে। মুম্বই প্র্যাকটিসেও হার্দিককে দেখে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো মনে হয়েছে। রোহিত-হার্দিকদের কেউ এদিন আর মাঠমুখো হলেন না। তবে অদ্ভুতভাবে এর আগের ম্যাচগুলো নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে আগ্রহ না থাকলেও, বুধবারের কলকাতা-মুম্বই যুদ্ধ ঘিরে আগ্রহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেটা অবশ্যই রোহিতের জন্য। আর রোহিতের কাছেও ইডেন বেশ পয়া। এখানে ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে। টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি আছে। কে জানে, রোহিতের জন্যই হয়তো ইডেনে বিকেল থেকে টিকিটের বেশ চাহিদা।
কেউ কেউ আবার প্র্যাকটিস দেখতে এসেছিলেন শুধু রোহিতকে দেখার জন্য। কিন্তু সেই আশা পূরণ হল না। রোহিতই যে প্র্যাকটিসে এলেন না। অধিকাংশ শহরবাসীর এখন একটাই চাওয়া-পাওয়া। বুধবার ইডেনে রো-হিট শো থাকুক। কিন্তু ম্যাচ জিতুক কেকেআর।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
