‘আসল’কে টেক্কা ‘নকলে’র!

‘আসল’কে টেক্কা ‘নকলে’র!

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


‘আসল’-কে যখন ‘নকল’ টেক্কা মারে, তখন সমাজের প্রান্তিক মানুষের মধ্যে তৈরি হয় উল্লাসের অনুভূতি, যা সমাজ-মনস্তত্ত্বর অংশ।

‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র পরিচয়পত্র হয়ে উঠবে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’– এমন কি কেউ ভেবেছিল কখনও? দেশের প্রধানমন্ত্রী বার্তা রেখেছেন যে, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বলে বাস্তবে কিছু হয় না। পইপই করে জনসতর্কতা দেওয়া হচ্ছে নানা উপায়ে। কিন্তু না রোখা যাচ্ছে প্রতারকদের, না সামলাতে পারছে মানুষ কষ্টার্জিত ধনসম্পত্তি। সর্বভারতীয় স্তরের একটি প্রখ্যাত ইংরেজি সংবাদপত্র দিন কয়েক আগে লম্বা প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হতে পারে কত যন্ত্রণাদায়ক।

প্রতারকদের লক্ষ্য, সেই ধরনের মানুষ, যারা বয়সে প্রবীণ, এবং ফোন-প্রযুক্তির নানা উপায়ের সঙ্গে সড়োগড়ো নয় তেমন। তাদের যদি ভয় দেখানো যায়, তাদের উপরে যদি চাপ তৈরি করা যায়, তাহলে কার্যসিদ্ধি হবে। এই মনস্তাত্ত্বিক খেলায় পারঙ্গম হয়ে উঠেছে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামক প্রতারণা চক্রেরা চাঁইরা। নকল সিবিআই অফিসার সেজে, নকল ইডি-কর্তা বলে প্রতারকরা বেধড়কভাবে তছনছ করছে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা।

যেটা লক্ষণীয়, ভুয়া পুলিশ সেজে পুলিশি ব্যবস্থাকে টুপি পরানোর কল্পনাটি কিন্তু সমাজ-মনস্তত্ত্বর অংশ। প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের সহজাত ভরসার জায়গাটিকে যদি ব্যবহার করা যায়, তাহলে সন্দেহ তৈরির অবকাশ তো তেমন থাকে না। ২০১৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল নীরজ পান্ডে-র ‘স্পেশাল ছাব্বিশ’। একদল প্রতারক নকল সিবিআই অফিসারের রূপ ধরে তহবিল তছরূপ করে। ব্যবসায়ী থেকে নেতা, কাউকে ছাড় দেয় না। তাদের ব্যক্তিত্বে ফুটে ওঠে প্রকৃত সিবিআই অফিসারের দাপট। আর, প্রতিটি কেসে তারা ঠিক সন্ধান করে বের করে এমন একটি ‘ব্ল্যাক স্পট’, যেখানে মোচড় দিলে উলটোদিকের লোকটির দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যাবে। এই গ্যাংটির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সত্যিকারের সিবিআই শুরু করে তল্লাশি।

নকল দলটির উপর কড়া নজর রাখে। তারপর একসময় তাদের একজনকে ধরেও ফেলে। তাকে জেরা করে জানা যায়, পরের দিন নকল সিবিআইয়ের দলটি মুম্বইয়ের বিরাট সোনার দোকানে হামলা চালাবে। তখনই পুরো দলটিকে ধরা হবে– এমনই পরিকল্পনা করে আসল সিবিআই অফিসাররা। কিন্তু সিনেমার শেষে, আমরা দেখতে পাই, নকল সিবিআই দলটিই বাজি মেরেছে। আসল সিবিআই অফিসাররা প্রতারক দলের যে-লোকটিকে গ্রেপ্তার করে উল্লসিত হয়েছিল, আসলে সেই লোকটি ধরা দিতে চেয়েছিল বলেই ধরা পড়েছে।

নকল সিবিআইয়ের দলটি হেসেখেলে সত্যিকারের সিবিআইয়ের টেক্কা দিচ্ছে– এমনটা দেখানোর মধ্যে বা এমন দৃশ্য উপভোগ করার মধ্যে এক ধরনের প্রতিষ্ঠানবিরোধী উল্লাস কাজ করে। ‘আমরা-ওরা’ বোধ কাজ করে, যেখানে ‘ওরা’ হল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আর ‘আমরা’ প্রতিষ্ঠান-বর্জিত সাধারণ মানুষ– যারা শোষিত, বঞ্চিত, পীড়িত। ফলে এমন সমাজ থেকে উঠে আসা নকল সিবিআইয়ের দল যখন ঘোল খাইয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানের বাঘাদের, তখন যে সুখের উদ্ভাস ঘটে, তা প্রান্তের জয় বলে গণ্য হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *