আর শোনা যাবে না আদুরে গলা, দুবাই থেকে ভিডিও কলেই দুর্ঘটনায় মৃত মেয়েকে দেখলেন বাবা

আর শোনা যাবে না আদুরে গলা, দুবাই থেকে ভিডিও কলেই দুর্ঘটনায় মৃত মেয়েকে দেখলেন বাবা

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


মনিরুল ইসলাম, উলুবেড়িয়া: কাজের সূত্রে থাকতে হয় দুবাইয়ে। প্রত্যেক রাতেই দুই মেয়ে ঈশিকা এবং ঈশানীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতেন বাবা অভিজিৎ মণ্ডল। এমনকী দুর্ঘটনার দিন, অর্থাৎ সোমবার সকালে দুই মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কথা ছিল রাতে আবার ভিডিও কল করার। কিন্তু মাঝের কয়েক ঘণ্টাতেই পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার! কথা মতো সোমবার রাতে ভিডিও কল আসে, কিন্তু মেয়ের হাসিমুখ না, দেখলেন মেয়ের লাশ। এরপরেই আজ মঙ্গলবার তড়িঘড়ি বিমান ধরেছেন অভিজিৎ মণ্ডল।

সোমবার দুপুরে উলবেড়িয়ায় ভয়াবহ পুলকার দুর্ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তিনজনের। মৃত্যু হয় শৌভিক দাস, অরিন দে এবং ঈশিকা মণ্ডলের। শৌভিক ও অরিনের দেহ সৎকার সোমবার রাতে হলেও ঈশিকার দেহ সৎকার হয়নি। তার বাবা ফিরলে তবেই হবে সৎকার হবে। ছোট্ট ঈশিকার দেহ বর্তমানে রাখা রয়েছে উলুবেড়িয়ার মেডিক্যাল কলেজের মর্গে। এলাকার তিন তিনজন ফুটফুটে তরতাজা খুদে পড়ুয়ার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। কেউই মেনে নিতে পারছে না এই মর্মান্তিক ঘটনাটি। অনেকের বাড়িতেই এদিন হাঁড়ি পর্যন্ত চড়েনি।

ঈশিকার বান্ধবী তিতলি দাস। ঈশিকাদের বাড়ি উল্টোদিকেই তাঁদের বাড়ি। তিতলি বলে, ”আমাকে দিদি বলতো। ও ছিল আমার খেলার সঙ্গী। কিছুতেই ভুলতে পারছি না ওর কথা। খুব ভালোবাসতো আমাকে। গতকালকে স্কুলে যাওয়ার সময়েও আমাকে চুমু খেয়ে গিয়েছিল।” ঘটনায় শোকস্তব্ধ পিসতুতো দিদি কোয়েল পোল্লে। কীভাবে এত কিছু ঘটে গেল তা কিছুই বুঝতে পারছেন না। একটাই আক্ষেপ, ড্রাইভার যদি একটু উদ্যোগ নিতেন তাহলে বাচ্চাগুলোকে বাঁচানো সম্ভবত হতো। বড় মেয়েকে ঈশিতাকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা আলপনা মণ্ডল। ভুলেছেন নাওয়া-খাওয়া। আলপনাদেবী জানান, “মেয়েটা পড়াশোনা খুব ভাল ছিল। হাতের লেখা খুব সুন্দর ছিল। মেয়েটা যে আমাদের এভাবে ছেড়ে চলে যাবে কল্পনা করতে পারছি না।”

তাঁর কথায়, ”দুবাইতে থাকলেও বাবা ছিল মেয়ে অন্ত প্রাণ। সকালে এবং রাতে দু’বেলা ভিডিও কলে কথা বলতো। মেয়েরা ঘুমিয়ে পড়লেও ভিডিও কলে তা দেখাতে হতো। কোনদিন কথা না হলে ভয়েস মেসেজ করে পাঠাতে হতো মেয়েদের কথা মেয়েরা কি করছে। ” আলপনাদেবী জানান, ”মেয়ের দুর্ঘটনার কথা প্রথমে ওর বাবাকে জানানো হয়নি। বলা হয়েছিল অসুস্থ। কিন্তু বারবার মেয়ের খবর নিতে ফোন করছিলেন। বাধ্য হয়ে মেয়ের মৃতদেহ তাঁকে দেখাতে হয়।” তা জানার পরেই ভেঙে পড়েছেন ঈশিতার বাবা অভিজিৎ মণ্ডল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *