‘আমার মুক্তি…’, রাজ্যে পালাবদলের পর বিস্ফোরক প্রাক্তন আমলা দেবাশিস সেন

‘আমার মুক্তি…’, রাজ্যে পালাবদলের পর বিস্ফোরক প্রাক্তন আমলা দেবাশিস সেন

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই এতদিনের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূলের নিচুতলার কর্মী, প্রাক্তনী থেকে সমাজের বহু বিশিষ্ট মানুষ। সকলের নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ী সরকার ও দলের ত্রুটিবিচ্যুতি। এতদিন সেসব নিয়ে মন্ত্রী-আমলা থেকে দলের সর্বস্তরের কর্মীরা প্রায় নীরব ছিলেন। এবার তাঁরা ধীরে ধীরে মুখ খুলছেন। তারই মধ্যে একজন হিডকোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন আমলা দেবাশিস সেন। বুধবার তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট – ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে’। আরও লিখলেন, ‘এখন দরজা খুলেছে। ইচ্ছে মতো চলব।’ এতে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, কী বলতে চাইলেন প্রাক্তন আমলা? নিশানাই বা করলেন কাদের?

পোস্টের কমেন্টে অবশ্য ‘মুক্তি’ সবিস্তারে বলেছেন দেবাশিস সেন। তিনি লিখেছেন, ‘গত দু’বছর আমাকে নিউটাউনে একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে ঢুকতে দিতেও কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। বলা হতো ওপর থেকে নির্দেশ আছে। সার্ভেলেন্স জারি হয়েছিল। আমি আমার বন্ধুদের সাথে কফি হাউসে গেলে তাদের পুলিশ থেকে শাসানো হয়েছিল, আর যেন আমার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখে। কোন অনুষ্ঠানে আমাকে অতিথি করা বারণ ছিল। চাপ দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও প্রভাবিত করা হত। ভয়ে সবাই মেনে নিতে বাধ্য হত। ইকো পার্কের সোলার ডোমের, পুরীতে জগন্নাথ ধামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাক্তনী হিসাবে আমন্ত্রণ করা তো দূরের কথা, পরেও কেউ দেখতে যেতে বলেনি।’

আরও পড়ুন:

দেবাশিস সেনের ফেসবুক পোস্ট।

দেবাশিস সেন রাজ্যের প্রাক্তন আমলা। একাধিক দপ্তর সামলানোর পর তাঁকে হিডকোর চেয়ারম্যান পদে বসিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ২০২৪ সালে সেই পদ থেকে অবসর নেওয়ার আগে পর্যন্ত হিডকোয় তাঁর কাজ বিপুল প্রশংসা পেয়েছিল। কিন্তু অবসরের পর থেকে কার্যত অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন এই কৃতী আমলা। এবার ছাব্বিশের ভোটে রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই মুখ খুললেন দেবাশিস সেন। ফেসবুক পোস্টে একলাইনের রবীন্দ্রসঙ্গীত লিখেই বোঝালেন অনেক কিছু। গত দু’বছরের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, “সুপ্রভাত। গত দু’বছর যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি দূরে থাকতে। কারণ কিছু অত্যন্ত নীচ ট্রোলারদের উৎপাত। এখন দরজা খুলেছে। ইচ্ছে মতো চলব।”

পোস্টের কমেন্টে অবশ্য ‘মুক্তি’ সবিস্তারে বলেছেন দেবাশিস সেন। তিনি লিখেছেন, ‘গত দু’বছর আমাকে নিউটাউনে একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে ঢুকতে দিতেও কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। বলা হতো ওপর থেকে নির্দেশ আছে। সার্ভেলেন্স জারি হয়েছিল। আমি আমার বন্ধুদের সাথে কফি হাউসে গেলে তাদের পুলিশ থেকে শাসানো হয়েছিল, আর যেন আমার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখে। কোন অনুষ্ঠানে আমাকে অতিথি করা বারণ ছিল। চাপ দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও প্রভাবিত করা হত। ভয়ে সবাই মেনে নিতে বাধ্য হত। ইকো পার্কের সোলার ডোমের, পুরীতে জগন্নাথ ধামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাক্তনী হিসাবে আমন্ত্রণ করা তো দূরের কথা, পরেও কেউ দেখতে যেতে বলেনি।’ আরও লিখেছেন, ‘আজ আমি খোলা মনে মাথা উঁচু করে ইকো পার্কে টিকিট কেটে যেতে পারব। আর পাঁচ জনের মত, পারব কফি হাউসে আড্ডা দিতে। Persona non-grata থেকে আবার দেবাশিস সেন। তাই আমি মুক্ত। জয় জগন্নাথ।’

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *