আমার ভাগ্য অতটা ভালো নয়! শুধু কাজ পাব বলে পার্টিতে যেতে পারব না: ঐন্দ্রিলা

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


পুজোর ঠিক পরেই আজ ‘শ্বেতকালী ২’ (গুহাকালী) সিরিজটা আসছে। লিড করার অনুভূতি কেমন?
– খুবই ভালো। সবাই পুরুষদের নিয়ে বেশি ভাবে, তারপরে মেয়েদের কথা আসে। এই সিরিজে লিড আমি আগেও করেছি, আমার ফ্র্যাঞ্চাইজি বলা যায়। ‘শ্বেতকালী ১’ ভালো হওয়াতেই ‘শ্বেতকালী ২’ আসছে। আগের গল্পটা শেষ হয়ে গিয়েছিল। ওখান থেকে আমার একটু মন খারাপ ছিল। তা হলে তো ‘শ্বেতকালী ২’ আর হবে না। কিন্তু আমাদের পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার সেটা ব্রেক করে এমনভাবে চরিত্রটা লিখেছেন এবং ফুটিয়ে তুলেছেন যেখানে মহিলা গোয়েন্দার ফ্লেভার পাওয়া যাবে। এর মাঝে কোনও সিরিজ করিনি, এটা রিপিট হচ্ছে। তাই অনুভূতি অসাধারণ।

বাংলায় মেয়েদের নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি কমই হয়।
– ঠিক, সেগুলোও খুব সীমিত।

আরও পড়ুন:

এই চরিত্রের চ্যালেঞ্জ কতটা ছিল?
– যখন প্রথমটা করেছিলাম তখন বেশি চ্যালেঞ্জ ছিল। তখন একজন ডাক্তার যার বিয়ে হতে চলেছে এমন একটা চরিত্র, যেটা প্রশংসিত হয়। দর্শক চরিত্রটা ভালোবেসেছিল বলেই একমাত্র ‘ঊর্বি’ আছে পার্ট টু-তে। আমার কাছে ফ্যামিলিটা নতুন, আমার বন্ধুর ফ্যামিলি। আমার ফ্যামিলির কেউ এই সিরিজে নেই। খুব বোল্ড একটা চরিত্র, যে অন্যায় সহ্য করে না। যখন দেখে কোনও অন্যায় হচ্ছে বা অন্ধ বিশ্বাসের জায়গা তৈরি হচ্ছে তখন সে নিজের পরোয়া না করে সমাধানের জন্য বিপদের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

“একটা স্ট্রাগল আমার ছোট থেকেই ছিল, যেটা এখনও আছে। আমার ঠিক কোথায় খামতি, আমি…”

পুজোর পরেই যেহেতু, মানুষের কতটা আগ্রহ থাকবে?
– আমার মন বলছে খুব আগ্রহ থাকবে। টিজারের খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। পোস্টারটাও ইউনিক। থ্রিলার ভালো হলে সবার ইন্টারেস্ট থাকে। যবে থেকে ঘোষণা হয়েছে তবে থেকেই সবাই বলছে পার্ট ওয়ান দেখেছি, পার্ট টু দেখব। পার্ট টু দেখতে গিয়ে বুঝতে কোনও সমস্যা হবে না। পুজোতে ধকলের পর একটু রিল্যাক্সড হলে বাংলা ‘জি ফাইভ’-এর পর্দায় এটা দেখতে ভালো লাগবে।

ঐন্দ্রিলা সেন

পরিচালক সানি ঘোষ রায় আপনার ঘনিষ্ঠ। পুরো টিমটা চেনা…
– কমফোর্ট জোন ছিল। শুধু সানিদা নয়, জি ফাইভ-এর পুরো টিম খুব ভালো। কোনওরকম কনফিউশন হলে সবার সঙ্গে আলোচনা করে খুব তাড়াতাড়ি মিটে যাচ্ছিল।

সিরিজে অনিন্দ্য, সুরাঙ্গনা, ঋদ্ধিমা, সপ্তর্ষি, রাজদীপ এঁরাও রয়েছেন। এঁদের যোগসূত্রটা কেমন?
– সিরিজের কথা বললে খুব গভীর যোগ। তবে সবার সঙ্গে প্রথমবার কাজ করছি। ছোটবেলার বন্ধুর বাড়িতে ঊর্বি গিয়েছে পুজোর জন্য। ঊর্বি যেখানেই যায়, সেখানেই কোনও ঘটনা ঘটে এবং রহস্যের সমাধান করে। এখানে গোয়েন্দা-সত্তাটা আরও বেশি ফুটে উঠছে। যদি এই সিরিজটা লোকের মনে দাগ কাটে তা হলে পার্ট থ্রি-তে প্রপার গোয়েন্দা হিসাবে আমাকে দর্শক দেখবেন।

“শুভেন্দুদা যখন তৃণমূলে ছিলেন নন্দীগ্রামে তখন থেকেই আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক। ওঁর হয়েই ম্যাক্সিমাম প্রচারও করেছিলাম। তার পরে খুব একটা প্রচারে অংশ নিইনি।”

এই ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব মূলত ছেলেদের কাছেই আসে। এই বিষয়টা কতটা ‘কিক’ দিয়েছে?
– যে কাজটা আমি করব না ঠিক করি, সেটা করি না। কিন্তু যেটা আমি করি সেটার জন্য প্রাণ দিয়ে দিতে পারি। ‘মির্জা’-তেও তাই করেছিলাম। আমি চাই ‘মির্জাপুর’-এর কোনও চরিত্র বা বাংলার ‘একেন’-এর মতো চরিত্রকে যতটা ভালোবাসা দিয়ে মানুষ মনে রেখেছে সেরকমই এই ঊর্বি চরিত্রটাকে বুদ্ধিমতী নারী হিসাবে মনে রাখুক। এই ধরনের চরিত্র আমাদের সমাজের জন্য আজকের সময়ে আসা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এর মধ্যে কী কী ছবির অফার এসেছে?
– ছবির প্রস্তাব খুব সীমিত। ছবির জন্য আমাকে খুব একটা কেউ অ্যাপ্রোচ করে না।

আপনি ভালো কাজ করেছেন, এত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে, তার পরেও কাজের প্রস্তাব কম আসার কারণ কী মনে হয়?
– সত্যিই জানি না। আমার সবার সঙ্গেই খুব ভালো সম্পর্ক। আমি বিশ্বাস করি যাঁরা মনে করবেন আমি সেই চরিত্রের জন্য ফিট তাঁরা নিশ্চয়ই বলবেন। একটা স্ট্রাগল আমার ছোট থেকেই ছিল, যেটা এখনও আছে। আমার ঠিক কোথায় খামতি, আমি সেটা এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। আমার খামতিটা বলে দেওয়ার মতো জোনেও আমি ঢুকিনি।

‘শ্বেতকালী ২’তেও কেন্দ্রীয়চরিত্রে ঐন্দ্রিলা সেন।

“হয়তো আমার ভাগ্য অতটা ভালো নয়। শুধু কাজ পাব বলে পার্টিতে যেতে পারব না।”

লাক ফ্যাক্টরে বিশ্বাস করেন?
– হ্যাঁ। কুসংস্কারে বিশ্বাস করি না, তবে লাক ফ্যাক্টরে বিশ্বাস করি। হয়তো আমার ভাগ্য অতটা ভালো নয়। শুধু কাজ পাব বলে পার্টিতে যেতে পারব না। বিশ্বাস করি কাজ ভালো করলে, তেমন প্রস্তাব আসবে।

মহালয়ার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আপনাকে এবং অঙ্কুশকে দেখা গিয়েছিল, রুদ্রনীল ঘোষ ছিলেন সেখানে। যোগসূত্রটা কেমন?
– রাজনীতি বুঝি না। রাজনীতি আমার কাছে সেকেন্ডারি। প্রথম দিন থেকে, ‘রুডি’ (রুদ্রনীল) যখন তৃণমূল করত তখনও ভালোবেসেছি, এখন যখন ও বিজেপিতে তখনও ভালোবাসি। আর শুভেন্দুদা যখন তৃণমূলে ছিলেন নন্দীগ্রামে তখন থেকেই আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক। ওঁর হয়েই ম্যাক্সিমাম প্রচারও করেছিলাম। তার পরে খুব একটা প্রচারে অংশ নিইনি। আমরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। সেখান থেকে অনেক বছর পর শুভেন্দুদার সঙ্গে অঙ্কুশের মাঝে অনেক জায়গায় দেখা হয়েছে। আমার সঙ্গে অনেকটা গ্যাপের পর দেখা হওয়াতে শুভেন্দুদা বললেন, ঐন্দ্রিলা অনেক বড় হয়ে গেছ। মহালয়ার অনুষ্ঠানে তোমরা এলে খুশি হব। এই ভাবেই আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। আনন্দ পেয়েছি। শেষে এটাই বলব এই নারীকন্দ্রেক কাজটা দর্শক যেন দেখে।

সহায়তা : পূর্বাশা দাস

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *