শেষ পর্যন্ত জেলমুক্ত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) দুই যুব নেতাকে মুক্তির নির্দেশ দিলেন। ১৪ অক্টোবর যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভের ঘটনায় তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীকালে যা ১৯ অক্টোবর আরও দুই দিনের জন্য বাড়ানো হয়। এরপরেও আইন প্রক্রিয়ার কারণে জেলেই ছিলেন সৌরভ ও আশুতোষ।
দুই সিজেপি নেতা বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধিকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এদিন যা শুনতে রাজিই হয়নি উচ্চ আদালত। হাই কোর্ট প্রশ্ন তোলে, বিকল্প আইনি পথ না খুঁজে এবং বিষয়টি স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের শুনানির জন্য অপেক্ষা না করে কেন আবেদনকারীরা সরাসরি দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন? এরপর উচ্চ আদালত থেকে আবেদন প্রত্যাহার করে নেন সৌরভ এবং আশুতোষ। যারপর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তির নির্দেশ দেন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম)।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু তারপর গত ১৩ অক্টোবর ব্যারিকেড টপকে সেখানে প্রবেশ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি করেন সৌরভ-আশুতোষরা। তাঁরা ছাড়াও ছিলেন অন্যান্য সিজেপি নেতারাও। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে স্লোগান দেন তাঁরা। এরপরই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সিজেপি নেতারা। তবে অন্যান্যদের ছেড়ে দিলেও সৌরভ এবং আশুতোষকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। পরে সেই মেয়াদ আরও ২ দিন বৃদ্ধি করা হয়। এরই প্রতিবাদে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ‘আরশোলা’রা।
আরও পড়ুন:
বুধবার সিজেপির কর্মকাণ্ডের প্রশ্ন তুলে বিচারপতি সুব্রমনিয়ম প্রসাদ বলেন, “আপনারা বিক্ষোভের সামনের সারিতে রয়েছেন। আপনারা যখন ব্যারিকেড ভাঙছেন, তখন আপনাদের অনুগামীরাও তা অনুসরণ করতে পারেন। এমনও হতে পারে যে, সেখানে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা আপনাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।” এরপর তিনি ফ্রান্সের বিক্ষোভ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বলেন, “আমরা দেশের বাইরে এমন ঘটনা ঘটতে দেখেছি, যা প্রাথমিকভাবে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ হিসাবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের মতো ঘটনায় রূপ নিল।” যদিও সরাসরি ফ্রান্সের নাম উল্লেখ করেনি আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, শান্তি ভঙ্গ করবেন না, এমন শর্তে জামিন পেয়েছিলেন সৌরভ, আশুতোষরা। কিন্তু সেই শর্ত তাঁরা ভঙ্গ করেছেন। বিচারপতি সুব্রমনিয়ম প্রসাদ দুই সিজেপি নেতার বয়স জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে একজন বলেন, ২৭, অন্যজন ৩১। এরপরই তিনি বলেন, “আপনারা তো জেন জি নন। আপনারা কারা? আপনারা কী করেন? আপনাদের সংগঠনের উদ্দেশ্যই বা কী? যখন শান্তি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে, তখন এই প্রশ্নগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
