বিধানসভা ভোটের পাঁচমাস পরও নিজের হার মানতে পারছেন না তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! হারের পিছনে বারবার দায়ী করছেন ভোট লুট, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর পদ্ধতিকে। বুধবার দিল্লিতে বিরোধীদের INDIA জোটের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার সেখান থেকে সাংবাদিক বৈঠকে ফের সেই অভিযোগেরই চর্বিতচর্বণ শোনা গেল তাঁর গলায়। এবার তিনি একযোগে নিশানা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও কমিশনের তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান সীমা খান্নাকে। বললেন, ‘‘সীমা খান্না, ভ্যানিশ কুমার (জ্ঞানেশ কুমার) হাইজ্যাক করেছে গোটা ভোটপ্রক্রিয়া।”
বললেন, ‘‘গণনার দিন ২,৩ রাউন্ড পর থেকে মানে পোস্টাল ব্যালট থেকে কারচুপি করেছে। তারপর মিডিয়াকে ম্যানেজ করল। সবাইকে বলল, বিজেপি জিতছে। এটাই আসল গল্প। সীমা খান্না, ভ্যানিশ কুমার মিলে হাইজ্যাক করেছে গোটা ভোটপ্রক্রিয়া। ভ্যানিশ কুমারের একটাই লক্ষ্য ছিল, বিজেপিকে সন্তুষ্ট করা। এদের কি পদত্যাগ চাইব না? আপনারাই বলুন। এঁদের শাস্তি হবে না? জনতা চায়।”
আরও পড়ুন:
৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পরাজয় মেনে নিতে পারছিলেন না। বারবারই অভিযোগ করছিলেন, গণনাকেন্দ্র থেকে তাঁকে মারধর করে সিআরপিএফ জওয়ানরা বের করে দিয়েছে এবং তারপর বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। একাধিকবার তিনি দাবি করেছেন, তিনি হারেননি, হারানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠকেও তাঁর মুখে একই কথা শোনা গেল। বললেন, ‘‘গণনার দিন ২,৩ রাউন্ড পর থেকে মানে পোস্টাল ব্যালট থেকে কারচুপি করেছে। তারপর মিডিয়াকে ম্যানেজ করল। সবাইকে বলল, বিজেপি জিতছে। এটাই আসল গল্প। ভ্যানিশ কুমারের একটাই লক্ষ্য ছিল, বিজেপিকে সন্তুষ্ট করা। এদের কি পদত্যাগ চাইব না? আপনারাই বলুন। এঁদের শাস্তি হবে না? জনতা চায়।”
এসআইআরের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন বাংলার ভোট লুট করেছে, এই অভিযোগ বারবার শোনা গিয়েছে মমতার গলায়। এদিন দিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বললেন, ‘‘কবে থেকে বলছি, ভোট লুট হয়েছে। আমি এর বিরোধিতায় আদালতে গিয়েছি, নিজে সওয়াল করেছি, বিচার পাইনি। এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নিয়ে কমিশনের অফিসে গিয়েছি। কমিশনার বলেছিলেন, ‘গেট লস্ট।’ বলুন তো, জ্ঞানেশ কুমারকে ক্ষমা করব কীভাবে? এপ্রিলে ভোট ছিল, আগের অক্টোবর থেকে এসআইআর হয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” এদিন মমতার বক্তব্য শুনে ওয়াকিবহাল মহলের মত, নিজের পরাজয় মানতে না পেরে এখনও কমিশনকেই দুষে যাচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী, কিন্তু জনমানসে আর এর কোনও প্রভাব নেই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
