বাঁকুড়ার জোড়া হত্যা: স্ত্রী-বাবাকে খুনের আগে নিজের আঙুল কাটে অভিযুক্ত!

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


অষ্টমীর রাতে প্রথমে নিজের বাঁ হাতে আঙুল কেটে রক্ত নিবেদন! তারপর স্ত্রীর মুণ্ডু কেটে মন্দিরে রেখে আসেন অভিযুক্ত। শেষে নিজের বাবাকে হত্যার অভিযোগ বাঁকুড়ার মঙ্গল চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অষ্টমীর রাতে দামোদর নদের চরে লালবাবা মানাচরে এই জোড়া খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত শরীরে আঘাত নিয়ে বাঁকুড়ায় চিকিৎসাধীন তিনি। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে ঘটনায় তন্ত্রসাধনা, তান্ত্রিকের প্ররোচনার কোনও বিষয় যুক্ত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে তদন্ত চলছে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত মঙ্গল ও তাঁর স্ত্রীন রুম্পা দীর্ঘদিন ধরে একটি মন্দিরে নিয়মিত পুজো-অর্চনা করতেন। প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে চলছিল এই পুজো। তাঁদের বাড়িতে এক তান্ত্রিক আসতেন বলে দাবি করেছেন গ্রামবাসী। সেই সূত্রেই তন্ত্রসাধনা কিংবা তান্ত্রিকের প্ররোচনায় এই ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তন্ত্রসাধনার যোগ এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা দয়াল পাত্র বলেন, “মন্দিরে মুণ্ড রাখা ছিল। আমাদের গ্রামে এরকম আগে কোনও দিন ঘটেনি। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। হাতে অস্ত্র নিয়ে ছিল মঙ্গল। সবাইকে তাড়া করছিল। বলছিল, সবাইকে মেরে ফেলব। ওদের ঘরে কী হত জানি না। তবে বাইরের কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত না। স্বামী-স্ত্রী খুব পুজো-অর্চনা করত।”

আরও পড়ুন:

অভিযুক্তের ভাই রামলক্ষণ চৌধুরীও জানান, তাঁর দাদা ও বউদি চার-পাঁচ বছর ধরে পুজো করতেন। তাঁর কথায়, “কোনও তান্ত্রিক কিছু করেছে কি না, বলতে পারব না। আমি এমনিতে ওদের বাড়িতে কম যেতাম। ঘটনার দিন বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে পারিনি। পরে দাদা আমাকে অস্ত্র নিয়ে মারতে আসে। আমি চিৎকার করে পাশের বাড়ির দিকে পালিয়ে যাই। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে বেরিয়ে আসেন।” বিষ্ণুপুরের এসডিপিও অঞ্জলি সুগা বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছই। অভিযুক্ত নিজের হাতের আঙুল কেটেছেন। শরীরেও বেশ কিছু আঘাত রয়েছে। তিনি বর্তমানে বাঁকুড়ায় চিকিৎসাধীন। পুলিশি নিরাপত্তায় রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট-সহ সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য,সোমবার, অষ্টমীতে রাত আটটা নাগাদ সোনামুখীর মানা চরের বাসিন্দা মঙ্গল চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্ত্রী ও তাঁর বাবাকে খুনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, প্রথমে ধারাল অস্ত্র দিয়ে বছর উনচল্লিশের স্ত্রী রুম্পাকে খুন করার পর তাঁর মুণ্ডু কেটে নিয়ে মন্দিরে রেখে দেয় মঙ্গল। পরে বাড়ির উঠোন থেকেই তার বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরীর দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর বয়স ৬০ বছর। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন নৃশংস পরিণতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তন্ত্রসাধনা ও বশীকরণের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তারপরই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিযুক্ত।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *