প্রবল বর্ষণ, হড়পা বানে বিপর্যস্ত পাহাড়, ধসে অবরুদ্ধ একাধিক সড়ক

প্রবল বর্ষণ, হড়পা বানে বিপর্যস্ত পাহাড়, ধসে অবরুদ্ধ একাধিক সড়ক

ইন্ডিয়া খবর/INDIA
Spread the love


রবিবার রাতভর প্রবল বর্ষণের ধাক্কায় ফের বিপর্যস্ত উত্তরের পাহাড়-সমতল। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত এক, জখম তিনজন। তিস্তার জলোচ্ছ্বাসে ভেসেছে কালিম্পংয়ের তিস্তা বাজার। জলে তলিয়েছে সড়ক। কালিম্পং-দার্জিলিংয়ের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ভূমিধসে ফের অবরুদ্ধ হয়েছে।

উত্তর সিকিমেও হুড়মুড়িয়ে নেমেছে পাহাড়। প্রচুর পর্যটক রাস্তায় আটকে পড়েন। দার্জিলিং জেলা প্রশাসন পর্যটকদের জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছে। এদিকে প্রবল বৃষ্টিতে ভুটান পাহাড়েও ভূমিধসে ফুন্টশোলিং-থিম্ফু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। তোর্সা নদীতে হড়পা বানের পরিস্থিতির জেরে প্লাবিত হয়েছে কালচিনি ব্লকের হ্যামিল্টনগঞ্জ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। জলে তলিয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর, রাস্তঘাট। তিস্তা ছাড়াও বেড়েছে জলঢাকা, তোর্সার জলস্তর। 

Darjeeling devastated by heavy rain and landslides
জলে ভেসেছে এলাকা। ছবি- সংগৃহীত

সিকিম, কালিম্পং পাহাড়ে অতিভারী বৃষ্টির জেরে সোমবার তিস্তার জলস্তর বিপজ্জনক ভাবে বাড়তে শুরু করে। তিস্তা বাজারের কাছে ঘুম, জোরবাংলো, তিস্তা বাজার হয়ে কালিম্পংগামী রাস্তার একাংশ জলের তলিয়ে যায়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রশাসন দার্জিলিং কালিম্পং রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে করে দেয়। তিস্তা বাজার এলাকায় বন্যাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ের পাশাপাশি নদীর জল সমতলে নেমে হড়পা বানের পরিস্থিতি হয়। তিস্তা সংলগ্ন চাঁপাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর বাসুসুবা, কেরানিপাড়া, মাস্টারপাড়া সহ একাধিক এলাকা জলবন্দি হয়েছে।

আবাদি জমি জলের তলিয়ে যাওয়ায় আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টির জন্য দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্ঘটনার খবর মিলেছে। সোমবার সকালে রোহিনী টোলের কাছে ঝাড়খণ্ডের একটি ছোট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলে চালকের মৃত্যু হয়। মারত্মক জখম তিন পর্যটককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিন বিকেলে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের কালীঝোরা কাছে ভাসুয়া এলাকায় ভয়ঙ্কর ভূমিধস নামে। বিরাট পাথরের চাই গড়িয়ে নেমে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়েছে। এর আগে সকালে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বারডাংয়র কাছে ২০ মাইলে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।

Darjeeling devastated by heavy rain and landslides
তিস্তার জলে ভাসছে রাস্তা। ছবি- সংগৃহীত

সেবক কালী মন্দিরের কাছে নতুন করে ধস নেমেছে। সকাল থেকেই শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক এবং কালিম্পংয়ে যাতায়াত কার্যত বন্ধ রয়েছে। রাস্তার দু’পাশে প্রচুর পর্যটকের গাড়ি আটকে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিধস নেমেছে উত্তর সিকিমেও। সেখানে থেন টানেলের কাছে সড়ক অবরুদ্ধ হয়েছে। পর্যটকদের শিপগিয়ার হয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হড়পা বানে রানিখোলসার কাছে গেইজিং-লেগশিপ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পশ্চিম সিকিমের দারামদিনের কাছে দারাগাঁও এলাকাতেও হড়পা বানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে।

এদিকে ভুটান পাহাড়েও রবিবার রাতভর ভারী বৃষ্টির জেরে তোর্সা নদীর জলস্তর উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস এবং গুদাম লাইন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফুয়েন্টশোলিং শহর থেকে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দূরে থিম্পু-ফুয়েন্টশোলিং মহাসড়ক ভূমিধসে অবরুদ্ধ হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে। মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। স্বভাবতই বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই গিয়েছে।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *