এনডিএ-র ডাকা দুটি বৈঠকে তাঁদের দেখা যায়নি। আবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেছেন। তাঁরা প্রকাশ্যেই বলেছেন, এনসিপিআইতে আছেন, কিন্তু বিজেপির সঙ্গে নেই। সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা প্রাতঃরাশ বৈঠকে আদৌ যাবেন কিনা তাই নিয়ে রীতিমতো জল্পনা ছিল। তবে সেসব জল্পনা উড়িয়ে শেষমেশ মোদির ডাকে সাড়া দিলেন খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান এবং ইউসুফ পাঠান। প্রধানমন্ত্রীর প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দিলেন ৩ জনই।
বস্তুত, কালীঘাট তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এনসিপিআই সরকারিভাবে এখনও স্বীকৃতি পায়নি। কিন্তু কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যপাধ্যায়রা যে কালীঘাট তৃণমূলের থেকে আলাদা সেটা মেনে নিয়েছেন স্পিকার। ওই আলাদা গোষ্ঠী আবার এনডিএর বৈঠকে ডাক পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহদের সঙ্গে এক সারিতে বসতে দেখা গিয়েছে সুদীপ-কাকলিদের। কিন্তু এসবের মধ্যে বরাবর সমস্যায় পড়েছেন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা মুর্শিদাবাদ থেকে জিতে আসা তিন সংখ্যালঘু সাংসদ। তাঁরা কোনওভাবেই এটা দেখাতে চান না যে তাঁরা বিজেপির সঙ্গে এক মঞ্চে রয়েছেন। সেকারণেই এনডিএ-র বৈঠকে তিন সাংসদকে দেখা যায়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা সাক্ষাৎ করা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে আলাদা সাক্ষাৎ করা এসব করেছেন।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে তাঁরা যোগ দেবেন কিনা জল্পনা ছিল। কারণ এদিন ব্রেকফাস্টে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সদ্য এনডিএ-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের। ওই বৈঠকে যাওয়ার অর্থ সরাসরি নিজেদের এনডিএর অংশ হিসাবে তুলে ধরা। কিন্তু শেষমেশ প্রধানমন্ত্রীর ডাক উপেক্ষা করতে পারেননি ইউসুফ পাঠান, আবু তাহের এবং খলিলুর রহমান। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেও নিজেদের আলাদা স্বীকৃতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উদ্বেগপ্রকাশ করেন এনসিপিআই সাংসদরা। আবেদন করার এতদিন পরও আলাদা দলের স্বীকৃতি না পাওয়ার ফলে সাংসদরা যে উতলা হচ্ছেন, সেটা প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এনসিপিআই সাংসদদের আপাতত ধৈর্য ধরার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এনসিপিআইয়ের আলাদা স্বীকৃতির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূলের প্রতীক বিবাদের সমাধান করা। যদি শেষমেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের প্রতীক এবং নামই বেরিয়ে যায়, তাহলে আর এই এনসিপিআই সাংসদদের দলত্যাগ বিরোধী আইনে পড়তে হবে না। তখন ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। ফলে আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতিতেই এগোতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী ওই বৈঠকে সব সাংসদদের নিজের এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নিজের এলাকার উন্নয়ন হলেই দেশের উন্নতি হবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
