জ্বালানি সংকট মেটাতে পেট্রলে যে ইথানল মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটার পরিণাম কী? আদৌ লাভ হবে দেশের অর্থনীতির, নাকি ক্ষতির মুখে পড়বে গাড়িগুলি? এসব কিছুই স্পষ্ট বলতে পারল না কেন্দ্র। বরং আদালতো মোদি সরকার জানাল এই ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের ফলাফল কী, সেটা স্পষ্ট হতে আরও বছর খানেক সময় লাগবে। সবটাই হচ্ছে পরীক্ষামূলকভাবে।
দেশে জ্বালানি সংকট কাটাতে বহুদিন ধরেই ইথানলের জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে মোদি সরকার। আগামী দিনে স্রেফ ইথানলের ভরসাতেই গাড়ি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। ইথানল হল আখ, ভুট্টার মতো বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের জৈব জ্বালানি। পেট্রলের সঙ্গে মিশিয়া এটি ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্রের দাবি, ভিনদেশ থেকে আমদানি করা তেলের উপর নির্ভরতা কমাতেই ইথানলের জ্বালানি তৈরি করতে মরিয়া সরকার। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে ইথানলের গুরুত্ব আরও বেশি করে অনুধাবন করতে পারছে মোদি সরকার।
আরও পড়ুন:
কিন্তু ইথানলের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে নানারকম প্রশ্নও উঠছে। গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, ইথানলের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাইলেজ কমে যাচ্ছে। এমনকী বহু গাড়িতে এই মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহার করা না যাওয়ায়-নতুন গাড়ি ব্যবহার করতেন হচ্ছে। এই সংক্রান্ত এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র জানাল, পেট্রলে ইথানল মেশানোর ব্যাপারটা এখনও পরীক্ষার স্তরে রয়েছে। ফলাফল আগামী বছর জানা যাবে।
আসলে কর্নাটক হাই কোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছে ‘ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড’। সেই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটারমানি জানিয়েছেন, ‘পরীক্ষামূলক ভাবে কেন্দ্র ২০ শতাংশ ইথানল প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আগামী বছরের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের রেজাল্ট পাওয়া যাবে।’ কেন্দ্র যে আপাতত যে ২০ শতাংশ ইথানল পেট্রলে মেশানো হচ্ছে সেটাকে ৩০ শতাংশ করতে চায়, এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
