বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল পর্তুগাল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে দলটি। একই সঙ্গে প্রয়াত সতীর্থ দিয়োগো জোটার স্মৃতিও অনুপ্রেরণা পর্তুগিজ ফুটবলারদের। বিশ্বকাপে জোটাকে সম্মান জানাতে বিশেষ উদ্যোগও নিয়েছে পর্তুগাল। তাঁর স্মৃতি আগলে অনুশীলন শুরু করেছেন রোনাল্ডোরা। এই আবহে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বাড়তি চাপ নিতে নারাজ তারা। দলের লক্ষ্য প্রত্যেক ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখা।
এই বিষয়ে আরও খবর
প্রায় এক বছর আগে মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন পর্তুগালের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান ফুটবলার দিয়োগো জোটা। তাঁর প্রয়াণ এখনও সতীর্থরা মেনে নিতে পারেননি। মাত্র ২৮ বছরেই পরলোকে চলে গিয়েছেন। পর্তুগালের এই তারকা ফুটবলার কখনও বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পায়ের চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে দলকে মূলপর্বে তুললেও বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন তাঁর অধরাই থেকে গিয়েছে।

বিশ্বকাপে জোটার আবেগঘন স্মৃতি নিয়েও মাঠে নামবেন পর্তুগিজ ফুটবলাররা। সম্প্রতি পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনেগ্রো দলের সঙ্গে দেখা করে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে একটি ব্রেসলেট উপহার দেন। সেখানে খেলোয়াড়দের নিজস্ব নামের পাশাপাশি লেখা রয়েছে দিয়োগো জোটার নাম। গত জুলাইয়ে স্পেনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি। কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তাঁকে বিশ্বকাপ দলে সাম্মানিক সদস্য হিসাবে রেখেছেন।
শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনহা বলেন, “নিজেদের উপর চাপ বাড়াতে চাই না আমরা। এই মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখতে চাইছি। ভবিষ্যতের কী হবে, সেসব নিয়ে না ভেবেও প্রতিযোগিতা জেতা যায়। আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই। শিরোপাও জিততে চাই। তবে আগে গ্রুপ পর্ব পেরতে হবে। এরপরেও একেকটি ম্যাচ ধরে এগোব।”
হাতে থাকা সবুজ-লাল ব্রেসলেট দেখিয়ে ভিতিনহা বলেন, “আমরা এটা অনেক ভালোবাসা দিয়ে পেয়েছি।” শুক্রবার সন্ধ্যায় আমেরিকা পৌঁছেছে পর্তুগাল দল। গোটা বিশ্বকাপে তাদের ঘাঁটি হবে ফ্লোরিডার পাম বিচ গার্ডেনস। শনিবারের অনুশীলনে সমর্থকেরা প্রবল উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়দের স্বাগত জানান। অনুশীলন শেষে রোনাল্ডোও সমর্থকদের অভিনন্দন জানান। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল।

এদিকে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতে তীব্র গরম নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তা নিয়ে অজুহাত দিতে রাজি নন ভিতিনহা। তাঁর কথায়, “শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়ার পরিস্থিতি আমাদের খেলার ধরনকে অনেকটাই প্রভাবিত করবে। তবে সেটা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এটা বিশ্বকাপ। এখানে কোনও অজুহাতের কোনও জায়গা নেই। দেশের জন্য যে কোনও পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ উজাড় করে দিতে হবে।”
প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও নিয়মিত জলপান করে অনুশীলন করছেন পর্তুগিজ ফুটবলাররা। অনুশীলনের আগে সমুদ্র সৈকতে কিছুটা সময় কাটিয়ে মানসিকভাবে সতেজ হওয়ার সুযোগও নিচ্ছেন তাঁরা। ভিতিনহা বলেন, “মানসিক দিক থেকেও নিজেদের সতেজ রাখা জরুরি। তাই সুযোগ পেলেই আমরা একটু বিশ্রাম নিই। বর্তমান পরিস্থিতির সদ্ব্যবহারও করি। মুহূর্তগুলি উপভোগ করার চেষ্টা করি।” ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ফুটবলজীবনে সব শৃঙ্গই ছুঁয়ে ফেলেছেন। অধরা একটা শৃঙ্গ। আর সেটাই যে সর্বোচ্চ, কুলীনদের মধ্যে কুলীন। বিশ্বকাপ ফুটবল। এবার সেই অধরা লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য নামবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
