গ্যাস ওভেনে আগুনের শিখা হলুদ হয়ে জ্বলছে, বিপদের ইঙ্গিত?

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


গ্যাসে তাড়াহুড়ো রান্না করছেন। দেখছেন জ্বলতে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। তবে গ্যাস থেকে বেরনোর শিখার রং যেন হলুদ। জানেন কি শিখার রংই গ্যাসের ওভেনের স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দেয়। সবসময় মনে রাখবেন একেবার সুস্থ গ্যাস ওভেনের শিখা হবে নীল রঙের। হলুদ কিংবা কমলা রঙের শিখা দেখা দেওয়ার অর্থ কিছু না কিছু সমস্যা রয়েছে। ঠিক কখন সতর্ক না হলে বড়সড় বিপদ হতে পারে, চলুন তা জেনে নেওয়া যাক।

ঠিক কোন কোন কারণে গ্যাস ওভেনে হলুদ শিখা দেখা যায়:

আরও পড়ুন:

  • এলপিজি গ্যাস জ্বলতে অক্সিজেনের প্রয়োজন। গ্যাস যখন হাওয়ায় মিশতে পারে তখন নীল রঙের হয়। তবে মিশতে না পারলে হলুদ কিং লালচে রঙের শিখা দেখা যায়।
  • অসম্পূর্ণ দহনের ফলে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি হতে পারে। এটি একটি বিষাক্ত গ্যাস যার বিষক্রিয়ার লক্ষণগুলির মধ্যে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এবং শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে। গ্যাসের ওভেনে ক্রমাগত হলুদ শিখা দেখা গেলে তা কখনই উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে, গ্যাস ওভেন জ্বলন্ত অবস্থায় বাড়ির কারও শরীর খারাপ লাগলে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
  • দুধ, রান্নার তেল এবং খাবারের ছোট ছোট কণা গ্যাস বার্নারের ক্ষুদ্র ছিদ্রগুলিতে জমে যেতে পারে। এই ময়লা জমে ছিদ্রগুলি আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে গ্যাস ও বাতাসের সঠিক মিশ্রণে বাধা তৈরি হতে পারে। তার ফলে আগুনের শিখার রং পরিবর্তিত হতে পারে। 
  • হলুদ রঙের আগুন অসম্পূর্ণ দহনের লক্ষণ হতে পারে। এর ফলে কালি তৈরি হতে পারে, যা হাঁড়ি ও কড়াইয়ের তলায় জমে যায়। রান্নার পর স্টিল, লোহা বা অ্যালুমিনিয়ামের বাসনপত্রের তলায় কালো দাগ বা কালি জমলে, তা গ্যাসের বার্নারে সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এই সমস্যা বারবার দেখা দিলে গ্যাসের ওভেনের পরীক্ষা করিয়ে নিন।
  • হলুদ শিখা অসম্পূর্ণ দহনের লক্ষণ হতে পারে, যার ফলে গ্যাসের খরচ বেড়ে যেতে পারে। গ্যাস সরবরাহের পাইপে বাধা, রেগুলেটরের ত্রুটি অথবা গ্যাসের চাপ সঠিক না থাকলেও বার্নারের কার্যক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।

কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন:

  • যদি গ্যাসের সিলিন্ডার অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাহলে শুধু শিখার রঙকেই এর কারণ বলে ধরে না নিয়ে একজন মিস্ত্রিকে দিয়ে গ্যাসের ওভেন ও গ্যাসের সংযোগগুলি পরীক্ষা করিয়ে নিন।
  • পরিষ্কার করার আগে উনুন ও গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দিন এবং বার্নারগুলি সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকায় অনুমতি থাকলেই কেবল বার্নারের অংশগুলি খুলুন, তারপর উপযুক্ত পদ্ধতিতে সেগুলি পরিষ্কার করুন।
  • বার্নারের ছিদ্রগুলিতে সূঁচ বা অন্য কোনো ধারালো বস্তু ঢোকানো থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে ছিদ্রগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • চুলা আবার ব্যবহার করার আগে নিশ্চিত করুন যে সমস্ত অংশ সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে এবং সঠিকভাবে লাগানো হয়েছে। এরপরও যদি আগুনের শিখা হলুদ থাকে, তাহলে একজন অনুমোদিত টেকনিশিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

একটানা হলুদ শিখা কখনই উপেক্ষা করা উচিত নয়। পরিষ্কার করার পরেও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বার্নারটি ব্যবহার বন্ধ করুন এবং বার্নার, গ্যাসের হোস ও রেগুলেটর পরীক্ষা করার জন্য একজন অনুমোদিত গ্যাস পরিষেবা প্রযুক্তিবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

যদি গ্যাস লিক হওয়ার সন্দেহ হয়, তাহলে নিরাপদ হলে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করুন। কোনও সুইচ চালু বা বন্ধ করবেন না এবং কোনো আগুন জ্বালাবেন না। অবিলম্বে ওই স্থান থেকে বেরিয়ে যান এবং আপনার গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা বা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ গ্যাসের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *