সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঘরের মাঠে আরও একটা টেস্ট সিরিজে চুনকাম হওয়ার আশঙ্কায় ভারত। চতুর্থ দিনে লাঞ্চের সময় রানের পাহাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। এখনও ডিক্লেয়ার ঘোষণা করেনি। অর্থাৎ আরও অনেকক্ষণ ব্যাট করতে পারে। লাঞ্চ পর্যন্ত প্রোটিয়াদের রান ৪ উইকেট হারিয়ে ২২০। অর্থাৎ এগিয়ে আছে ৫০৮ রানে। প্রথম ইনিংসে টেম্বা বাভুমাদের রান ছিল ৪৮৯। সেটার জবাবে ভারতের ইনিংস গুটিয়ে যায় ২০১ রানে। ফলে আগামী দেড় দিনে ঋষভ পন্থরা এই বিরাট তাড়া করে জিতবেন, এরকম স্বপ্ন সম্ভবত কেউই দেখছেন না। শুধু দেখার বড়জোর টিকে থেকে টেস্ট ড্র করতে পারে কিনা। অবশ্য তাতেও সিরিজ হার আটকানো যাবে না।
তৃতীয় দিনের শেষে ২৬ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ দিনের লাঞ্চ পড়ল ৪ উইকেট। রায়ান রিকেলটন (৩৫) ও আইডেন মার্করামকে (২৯) ফেরালেন রবীন্দ্র জাদেজা। রিকেলটন একটু ঝুঁকি নিয়ে চালাতে গিয়ে ক্যাচ দেন। তবে মার্করামকে যেভাবে বোকা বানিয়ে জাড্ডু বল ঘোরালেন, তা সত্যিই অনবদ্য। একই সঙ্গে তা চিন্তায় রাখবে ভারতীয় ব্যাটিংকে। কারণ, শুধু জাদেজা নয়, পরে আরেক বাঁহাতি কুলদীপ যাদবও বলে টার্ন পেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলেও কিন্তু কেশব মহারাজ, সাইমন হার্মারের মতো বাঁহাতি স্পিনার আছে। তার সঙ্গে জানসেনের পেস ও বাউন্সও সামলাতে হবে।
তবে সবার আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ডিক্লেয়ার করতে হবে। অলআউটের আশা কেউই দেখছেন না। কেন? কারণ, কুলদীপদের শুধুমাত্র ‘ঝেঁটিয়ে’ অর্থাৎ সুইপ-রিভার্স সুইপ করে রান তুলে গেলেন টনি ডে জর্জি। কোনও বিকল্প রাস্তার খোঁজ করলেন না ভারতীয় স্পিনার। অবশ্য ওয়াশিংটন সুন্দর যে টেম্বা বাভুমার উইকেট পেলেন, তা অতিরিক্ত টার্ন ও বাউন্সের জন্য। এতটাই টার্ন করল যে, বাভুমার হাতে লেগে লেগ স্লিপে চলে যায়। বলের গতি কমিয়ে জর্জিকে এলবিডব্লু করলেন জাদেজা। ওই একবারই সুইপ করতে গিয়ে ভুল করলেন।
আর ভারতীয় দলের ‘ভুল’ অনেক। সবচেয়ে বড় সমস্যা বডি ল্যাঙ্গুয়েজে কোনও আগ্রাসন নেই। পন্থকে দেখে মনে হচ্ছে দিশাহারা। বাধ্য হয়ে যশস্বীকে দিয়েও বল করান পন্থ। দিব্যি খোশমেজাজে গল্প করছেন বুমরাহ-যশস্বী। যেখানে টেস্ট ড্র হলে সিরিজ হারবে, সেখানে একটু বেশিই ‘হাসিখুশি’ মেজাজে দেখা গেল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। গুয়াহাটিতে এত ‘গন্ডগোল’ দেখে গৌতম আর কত ‘গম্ভীর’ থাকবেন?
