জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ‘ককরোচ’ বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। আন্দোলনের আঁচ আছড়ে পড়েছে মায়ানগরী মুম্বইয়েও। আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ কিরিট সোমাইয়া। অভিনেতার বিরুদ্ধে মুম্বই পুলিশের ‘ভারত ছাড়ো’ নোটিস জারির পর আরও বিস্ফোরক বিজেপি নেতা। সোমাইয়ার দাবি, ‘পাকিস্তানের থেকে টাকা খেয়ে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন ইমরান খান।’ এবার ‘আরশোলা’দের প্রতিবাদকে সমর্থন করলেও বিক্ষোভের নামে অশালীন ভাষা, হিংসা ও ভাঙচুরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
বিদেশ থেকে একটি ভিডিও বার্তায় ৭১ বছর বয়সি অভিনেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারের সমালোচনা করা বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রশ্ন করা এবং তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা—সবই গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে মতবিরোধ প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। ভিডিও বার্তায় অনুপম খের বলেন, “আমাদের প্রত্যেকেরই প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। সরকারের কাছে প্রশ্ন করা, প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করা এবং তাঁর সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা—এগুলি গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান।”
আরও পড়ুন:
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি নিজের সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন। তাঁর মতে, যাঁরা তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে একমত, তাঁদেরও নির্ভয়ে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করা উচিত। অনুপমের কথায়, “শালীনতা বজায় রাখার অর্থ চুপ করে থাকা নয়।” ভারতে সাম্প্রতিক প্রতিবাদের বিভিন্ন ভিডিও দেখে তিনি অত্যন্ত দুঃখিত ও ক্ষুব্ধ। তাঁর বক্তব্য, সরকারের বিরোধিতা করা এবং প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা, তাঁর মাকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা কিংবা পুলিশকর্মীদের, বিশেষত মহিলা পুলিশকর্মীদের অসম্মান করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অনুপমের প্রশ্ন, “আপনার বিরোধিতা যতই তীব্র হোক না কেন, নিজের বক্তব্য বোঝাতে গালিগালাজই একমাত্র পথ? আপনার যেমন নিজের মতামত রাখার অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনই আমারও রয়েছে। আপনি সরকারের বিরোধিতা করতে পারেন, আর আপনার বিরোধিতা করার পদ্ধতির বিরোধিতা করার অধিকার আমার রয়েছে।” বিগত বারো বছরে প্রধানমন্ত্রীর কাজকর্মে তিনি যে সাফল্য দেখেছেন তার ভিত্তিতেই এখনও মোদির প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে। আর ভরসাস্থল থেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে যে সবচেয়ে বেশি চিৎকার করবে তার কথাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে, এমনটা নয়।
জ্ঞানেশ বিরোধিতা প্রসঙ্গে অনুপমের দাবি, “আপনি যদি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন, যদি জ্ঞানেশ কুমার বা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ থাকে তা হলে প্রমাণ পেশ করুন, জবাব চান এবং আইনি ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করুন। অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে প্রমাণ প্রয়োজন।” অনুপমের কথায়, “ভোটাধিকারের মাধ্যমে সরকারকে পরাজিত করাই গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। কিন্তু সেই প্রতিবাদের আড়ালে যদি হিংসা, ভাঙচুর কিংবা মানুষকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা হয়, তা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে কথা বলব।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘চায়েওয়ালা’ কটাক্ষের তীব্র বিরোধিতা করেছেন অনুপম খের। তাঁর কথায়, “কাউকে চায়েওয়ালা বলে ছোট করে দেখানোর বিষয়টি আমি একেবারেই মেনে নিতে পারি না। কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা অর্জন করা সম্মানের বিষয়। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষেরও বড় স্বপ্ন দেখার এবং তা পূরণ করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই শালীনতা ও আচরণবিধি বজায় রাখা উচিত।”
নিজের মতামতের জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন তা আগেই অনুমান করেছিলেন অনুপম খের। কেউ তাঁকে ‘অন্ধভক্ত’ বা ‘দালাল’ বলেও কটাক্ষ করতে পারেন। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সবাইকে খুশি রাখতে নিজের মতপোষণ থেকে সরে যাবেন এমনটা কখনই হবে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
