মাটির সঙ্গে পরিবারের কোনও সম্পর্ক নেই। বাবা কৃষক, মা গৃহবধূ। কিন্তু ছোটবেলা থেকে মাটি নিয়ে খেলাধুলো এবং অবয়ব তৈরির প্রতি ছেলের ছিল প্রবল টান। সেই টানেই একদিন নিজের হাতে গড়ে ফেলেছিল আট ইঞ্চির ছোট্ট দুর্গাপ্রতিমা! তখন সে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। নদিয়ার বাদকুল্লার নবপুকুরিয়ার বাসিন্দা কৃশানু রায় আজ পরিণত শিল্পী। ছোটবেলা থেকে তৈরি করা খুদে প্রতিমাই আজ জায়গা করে নিচ্ছে জেলা, রাজ্য ছাড়িয়ে ভিনরাজ্য, এমনকী বিদেশেও। কৃশানুর আলাদা বৈশিষ্টই হল মিনিয়েচার বা ছোট প্রতিমা, যার ব্যাপক চাহিদা সর্বত্র।

আরও পড়ুন:
কৃশানুর বাবা শ্যামগোপাল রায় পেশায় কৃষক, মা ডলি রায় গৃহবধূ। পরিবারের একমাত্র সন্তান কৃশানুর মৃৎশিল্পের কোনও পারিবারিক ইতিহাস নেই। ছোটবেলায় বাদকুল্লার দুর্গাপুজোর জাঁকজমক আর কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীদের কাজ দেখতে দেখতেই প্রতিমা গড়ার ইচ্ছে তৈরি হয় তাঁর। একা একাই শিখেছেন, কীভাবে মাটির কাঠামোয় ফুটিয়ে তুলতে হয় দেবদেবীর অবয়ব। কোনও প্রশিক্ষণ ছিল না। তাতেই ২০১৮ সালে নিজের হাতে কৃশানু তৈরি করে ফেলে আট ইঞ্চির দুর্গাপ্রতিমা। তখনই তাঁর প্রতিভা চিনে নিয়েছিল সকলে। এলাকার একটি ক্লাবে দুর্গাপুজোর সময় বড় প্রতিমার পাশে রাখা হয়েছিল কৃশানুর তৈরি খুদে প্রতিমা। হয়েছিল পুজোও।
রানাঘাট কলেজের বাংলা অনার্সের ছাত্র মন দিয়েছেন মূলত ছোট আকারের প্রতিমা বা মিনিয়েচার নির্মাণে। দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ-সহ বিভিন্ন দেবদেবী রূপ পায় তাঁর হাতে। গত তিন বছর ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই কাজ করে চলেছেন তরুণ শিল্পী। তাঁর তৈরি প্রতিমার ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করার পর থেকেই বাড়তে থাকে পরিচিতি। দমদম, দক্ষিণ কলকাতা, রানাঘাটের পাশাপাশি বেঙ্গালুরু থেকেও প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন। আমেরিকা থেকেও এসেছিল বায়না। যদিও সময়ের অভাবে সেই কাজ নেওয়া সম্ভব হয়নি এবছর।
এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কৃশানুকে। রানাঘাট কলেজের বাংলা অনার্সের ছাত্র মন দিয়েছেন মূলত ছোট আকারের প্রতিমা বা মিনিয়েচার নির্মাণে। দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ-সহ বিভিন্ন দেবদেবী রূপ পায় তাঁর হাতে। গত তিন বছর ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই কাজ করে চলেছেন তরুণ শিল্পী। তাঁর তৈরি প্রতিমার ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করার পর থেকেই বাড়তে থাকে পরিচিতি। দমদম, দক্ষিণ কলকাতা, রানাঘাটের পাশাপাশি বেঙ্গালুরু থেকেও প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন। আমেরিকা থেকেও এসেছিল বায়না। যদিও সময়ের অভাবে সেই কাজ নেওয়া সম্ভব হয়নি এবছর।

কিছুটা আক্ষেপের সুরেই কৃশানু জানাচ্ছেন, ইচ্ছে ছিল আর্ট কলেজে ভর্তি হয়ে প্রথাগত শিক্ষা নেওয়ার। কিন্তু আর্থিক অনটনে সেই সুযোগ হয়নি। ছেলের ইচ্ছে পূরণ করতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে মা ডলি রায়েরও। তবে আর্ট কলেজে পড়ার সুযোগ না পেলেও নিজের চেষ্টায় শিল্পচর্চা চালিয়ে গিয়েছেন কৃশানু। এখন প্রতিমা তৈরির অগ্রিম টাকা দিয়েই পরবর্তী কাজের প্রস্তুতি নেন। নিজের উপার্জনে স্বনির্ভর হয়ে বাকি স্বপ্ন পূরণ করতে চান বাদকুল্লার এই মৃৎশিল্পী। পুজোর হাতে গোনা কয়েকদিন আগে পড়াশোনার পাশাপাশি তাই প্রতিমা তৈরির কাজও করে চলেছেন কৃশানু। যে ছেলের শিল্পী হওয়ার পিছনে কোনও পারিবারিক উত্তরাধিকার নেই, সেই ছেলের হাতেই আজ মাটি পেয়ে যাচ্ছে নতুন রূপ। সামাজিক মাধ্যমের হাত ধরে তাঁর কাজ পৌঁছে যাচ্ছে দূরদূরান্তে। শৈশবের সেই ছোট্ট আগ্রহ যে একদিন তাঁর নিজের পরিচয় হয়ে উঠবে, তা হয়তো ভাবেননি কৃশানু নিজেও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
