শিক্ষার আঙিনাতেও এবার ধাসমা-মাদলের বোল! এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই গমগম করে উঠবে সাঁওতালি সুর-তাল-ছন্দ। আদিবাসীদের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গবেষণায় এক নজির গড়ল বাংলা। দেশের মধ্যে এই প্রথম সাঁওতালি নাচ ও গানে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করল ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্যতে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করার অনুমতি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই কোর্স চালু হয়। অনুষ্ঠানে ছিলেন অনগ্রসর শ্রেণিকল্যান দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, বিধায়ক প্রণত টুডু, সাংসদ কালীপদ সরেন।
বর্তমানে বিশ্ব বিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা ও পিজি ডিপ্লোমা রয়েছে। দু’টি কোর্সই এক বছরের। এবার দু’বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চন্দ্রদীপা ঘোষ বলেন, “সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্যে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করার দাবি জানিয়েছিলেন। আমরা উচ্চ শিক্ষাদপ্তরে এই কোর্স চালুর অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলাম। আমাদের সিলেবাস থেকে শিক্ষক সব প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার উচ্চ শিক্ষাদপ্তরের অনুমোদন পেয়েছি। ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে পড়ুয়ারা ভর্তি হতেও শুরু করেছে।”
আরও পড়ুন:
উপাচার্য আরও জানান “শুধু মাত্র রাজ্যেই প্রথম নয়, দেশেও এই প্রথম ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথম সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্যতে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হচ্ছে।” সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্যতে স্নাতকোত্তর পঠনপাঠানোর জন্য আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীরা একাধিকবার দাবি জানানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঝাড়গ্রাম লোধাশুলি পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেছিলেন। বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, “সাঁওতালি সংস্কৃতির বিকাশে আরও এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
