এখনও মেলেনি ফ্ল্যাটের চাবি, পুরসভার ঢিলেমিতে বঞ্চিত উপভোক্তারা 

এখনও মেলেনি ফ্ল্যাটের চাবি, পুরসভার ঢিলেমিতে বঞ্চিত উপভোক্তারা 

শিক্ষা
Spread the love


সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসজেডিএ) (SJDA) তরফে গোশালা মোড়-মাহুতপাড়া এলাকায় ৬৪টি সিঙ্গল বেডরুমের ফ্ল্যাট তৈরি করে উপভোক্তাদের দেওয়ার জন্য পুরসভাকে চাবি হস্তান্তর করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে উপভোক্তাদের ঘর দেওয়ার সূচনাও হয়েছিল। কিন্তু কোনও উপভোক্তাই ফ্ল্যাটের চাবি পাননি বলে অভিযোগ। পুরসভার ঢিলেমির কারণে নিজেদের বাড়ি পাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত উপভোক্তারা।

যদিও পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর দেওয়ার সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে হয়ে গিয়েছে। এই প্রকল্পের ঘর একমাত্র গৃহহীনরা পাবেন। তাঁরা কোনওদিন কাউকে বাড়ি বিক্রি বা ভাড়া দিতে পারবেন না। ঘরের চাবি দেওয়ার আগে উপভোক্তাদের এই সংক্রান্ত কিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে। সেই প্রক্রিয়ার জন্য ৬৪ জনের নথি তৈরির কাজ চলছে। তার মধ্যে দুর্গাপুজো, কালীপুজো এবং ছটপুজোর ছুটির কারণে একটু দেরি হল। আজ অফিস খুলেছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে খুব তাড়াতাড়ি ঘরের চাবি ৬৪ জনের হাতেই তুলে দেওয়া যায়।’

অভিযোগ, একদিকে যখন হাউজিং ফর অল প্রকল্পে ঘর তৈরির জন্য সঠিক সময়ে প্রাপ্য টাকা পাচ্ছেন না উপভোক্তারা, ঠিক সেই সময় বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রায় তিন বছর আগে এসজেডিএ ফ্ল্যাট তৈরি করার পরেও সেগুলো উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

গোশালা মোড় এলাকায় এসজেডিএ’র নিজস্ব জমিতে দুটি আলাদাভাবে চারতলা আবাসন তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি আবাসনে ৩২টি করে মোট ৬৪টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটে একটি করে ঘর, রান্নাঘর এবং শৌচালয় রয়েছে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরে এসজেডিএ’র তৎকালীন চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, ওইসব ফ্ল্যাট তাঁদেরই দেওয়া হবে যাঁরা দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করেন। যাঁদের নিজস্ব জমি-বাড়ি কিছুই নেই তাঁদের এই ফ্ল্যাট সরকার থেকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হবে। মাস কয়েক আগে দিলীপ দুগার এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৬৪টি ফ্ল্যাটের চাবি একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুরসভার হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, কারা এই বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ফ্ল্যাট পাওয়ার যোগ্য তাঁদের ৬৪ জনের নামের তালিকা পুরসভার তরফে তৈরি করে যাচাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের তরফে সেই তালিকা যাচাই করে তাতে সিলমোহর দিয়ে পুনরায় পুরসভার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সেপ্টেম্বর মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জলপাইগুড়ি আসেন। সেই সময় সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দুই উপভোক্তার হাতে বাড়ির নথি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদেরই একজন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৌমিতা তালুকদার। বললেন, ‘আমি এখনও ফ্ল্যাটের চাবি পাইনি। পুরসভায় খোঁজ নেব কীভাবে ফ্ল্যাটের চাবি পাওয়া যাবে।’

এ ব্যাপারে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তপন বন্দ্যোপাধ্যােয়র বক্তব্য, ‘মৌমিতা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আমার ওয়ার্ডের একজন উপভোক্তা। আমি নিজেও পুর কর্তৃপক্ষকে বলেছি যাতে চাবি দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *