দেশের প্রথম সারির আইনজীবী শীর্ষ আদালত সম্পর্কে বলছেন, সেখানে আইনি লড়াইয়ে গিয়ে আদৌ কোনও লাভ হবে কিনা! রবিবার বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিবালের মুখে এহেন কথা শুনে প্রতিক্রিয়া দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে সিবালের এই মন্তব্যে। আইনব্যবস্থার প্রতি প্রবীণ আইনজীবী যেন আস্থা না হারান, সেটাও নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
শনিবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ দমন করতে নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপ করে দিল্লি পুলিশ। কার্যত অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয় রাজধানী। তারই প্রতিবাদে সাংবাদিক বৈঠক করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ সিবাল। প্রশ্ন তোলেন, “কেউ যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাতে চান, তাহলে তাতে কার কী সমস্যা হতে পারে?” যেভাবে ককরোচ নেতাদের দমন করা হয়েছে সেটার আইনি ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলেন সিবাল।
আরও পড়ুন:
সাংবাদিক বৈঠকেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এ বিষয়ে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ তিনি চাইছেন কিনা। সে প্রশ্নের জবাবে হতাশার সুর শোনা যায় প্রাক্তন কংগ্রেস নেতার কথায়। সিব্বল বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে গিয়ে ক্লান্ত। জানি না আদৌ কোনও লাভ হবে কিনা।” যদিও পরক্ষণেই তিনি সাফাইয়ের সুরে বলেছেন, “এই বক্তব্য আমার নিজস্ব মতামত।” প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি সরাসরি প্রধান বিচারপতিকে নিশানা করছেন? তাঁর ভূমিকায় কি অখুশি? বর্ষীয়ান আইনজীবীর মতে, “প্রশ্নটা আমার ব্যক্তিগত সন্তোষ বা অসন্তোষের নয়। আমরা আইনজীবী। আমাদের লড়াইটা মানুষের জন্য।”
কিন্তু সিবালের এই মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, “আমরা আছি, মিস্টার সিবাল যেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ফিরে পান সেটা নিশ্চিত করব। এতদিন তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা রেখেছেন, সেটা আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।” আসলে এসআইআর এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে অজস্র মামলা করেন কপিল সিব্বল। মূল বক্তব্য ছিল, এসআইআর বাতিল করতে হবে। কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তাতে কর্ণপাত করেনি শীর্ষ আদালত। সম্ভবত তাতেই হতাশ সিব্বল। ককরোচ ইস্যুতে অবশ্য শীর্ষ আদালত খানিকটা সিবালের হয়েই কথা বলেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
