চোট সারিয়ে কবে দলে ফিরবেন হার্দিক পাণ্ডিয়া, তা নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। নিশ্চিত নন চিকিৎসকেরাও। মাঠে ফিরতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে ভারতীয় অলরাউন্ডারকে। সূত্রের খবর, তাতে আরও ৫ মাস মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে ভারতীয় অলরাউন্ডারকে। আগামী বছর মার্চে আইপিএল শুরুর আগে তাঁকে সুস্থ করে তোলাই এখন চিকিৎসকদের লক্ষ্য। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হার্দিক মাঠে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই। অর্থাৎ তিনি যে আইপিএল খেলবেন, সে কথাও জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।
চোটের কারণে গত কয়েক মাস ধরে মাঠের বাইরে হার্দিক। চলতি বছরের মে মাসে আইপিএলের পর থেকে আর খেলতে দেখা যায়নি তাঁকে। দেশের হয়ে শেষবার খেলেছিলেন মার্চে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে। ফলে আগামী বছরের আইপিএলে ফিরলে প্রায় এক বছর পর মাঠে নামবেন ভারতীয় অলরাউন্ডার। যদিও সেই প্রত্যাবর্তন নিয়েও আশাবাদী হতে পারছেন না কেউ। আপাতত বেঙ্গালুরুতে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে রয়েছেন হার্দিক। গত সপ্তাহে তাঁর মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখেছেন চিকিৎসক দীনশ পারদিওয়ালা। জানা গিয়েছে, আরও তিন সপ্তাহ পরে হালকা জগিং শুরু করতে পারেন তিনি। তার পরের ৮ সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে অনুশীলনের চাপ।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, আরও তিন সপ্তাহ পরে হালকা জগিং শুরু করতে পারেন তিনি। তার পরের ৮ সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে অনুশীলনের চাপ।
ডান পায়ের শিনের ভিতরের দিকে হাড়ে চোট পেয়েছেন হার্দিক। সেই জায়গায় যাতে নতুন করে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকেই বিশেষ নজর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। মনে করা হয়েছিল, গত সেপ্টেম্বর মাসে ফিটনেসের ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন তিনি। তবে নতুন করে চোট পান হার্দিক। তাঁর ডান পায়ের শিনের হাড়ে স্ট্রেস ইনজুরি ধরা পড়ে। তার পর থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া চলছে। হার্দিককে নিয়ে কোনও রকম তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁকে পুরোপুরি ফিট করে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য। রেভস্পোর্টজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হার্দিককে নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক ভারতীয় দল। তাঁকে ফিরতে হলে সম্পূর্ণ ফিট হয়েই ফিরতে হবে। দলের এক সূত্রের কথায়, “এবার ১১০ শতাংশ ফিট না হওয়া পর্যন্ত হার্দিককে মাঠে ফেরানো যাবে না। আশা করা হচ্ছে, দু’মাসের মধ্যে ও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে।”
দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশে তাঁর পেস বোলিং কার্যকর হতে পারে। তাই হার্দিককে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইবে না ভারতীয় দল। আইপিএলের আগে তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা চললেও আসল লক্ষ্য ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য সম্পূর্ণ ফিট হার্দিককে পাওয়া।
চোটের কারণে একের পর এক সাদা বলের সিরিজে খেলতে পারেননি হার্দিক। দেশের মাটিতে আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও জিম্বাবোয়ে সফরেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। নিউজিল্যান্ড সিরিজেও রাখা হয়নি তাঁকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরের শ্রীলঙ্কা সিরিজ এবং জানুয়ারির জিম্বাবোয়ে সিরিজেও তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ। শেখানে হার্দিকের মতো অলরাউন্ডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। ব্যাট হাতে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি বল হাতেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশে তাঁর পেস বোলিং কার্যকর হতে পারে। তাই হার্দিককে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইবে না ভারতীয় দল। আইপিএলের আগে তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা চললেও আসল লক্ষ্য ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য সম্পূর্ণ ফিট হার্দিককে পাওয়া। কিন্তু চোট সারতে কত দিন লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির আগে হার্দিকের ফিটনেস তাই ভারতীয় শিবিরের কাছে বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
