অনুরোধ-উপরোধ নয়, কাজ হাসিল করতে পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে তাণ্ডব মদ্যপ গ্রামবাসীর!

অনুরোধ-উপরোধ নয়, কাজ হাসিল করতে পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে তাণ্ডব মদ্যপ গ্রামবাসীর!

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


সরকারি অফিসে কোনও কাজ করতে গেলে আমজনতার মুখে সাধারণত শোনা যায় আধিকারিকরদের প্রতি অনুরোধের সুর – ‘‘স্যর, দয়া করে আমার সমস্যাটা একটু দেখবেন।” অথবা ‘‘কখন আমার কাজটা হবে, একটু বলবেন।” কিন্তু শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের ভাল্যগ্রাম পঞ্চায়েতে সেই চেনা দৃশ্য বদলে গেল একেবারে অ্যাকশন ছবির সেটে! একজন এলেন, পরনে শুধু লুঙ্গি মালকোঁচা দিয়ে পরা, খালি গা। ঘাম গড়িয়ে পড়ছে। চেহারা বেশ ষণ্ডা মার্কা। তার উপর আকন্ঠ মদ্যপ, তাও বোঝা যাচ্ছে। এভাবেই পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে পড়লেন মঙ্গলকোটের পিণ্ডিরা গ্রামের বাসিন্দা কালু দলুই।

সময়টা পড়ন্ত দুপুর। অফিসের কর্মীরা তখনও নথিপত্রে ডুবে। হঠাৎই তাঁদের সামনে আবির্ভূত হয়ে অভিনয় শুরু করে দিলেন কালু। জড়িয়ে যাওয়া গলায় তুমুল চিৎকার, ভাঙচুর। অফিসের কম্পিউটার, বিদ্যুতের মিটার, অফিসের সব সামগ্রী – যখন যা হাতের সামনে পেলেন, সেসব ভেঙেচুরে দিলেন। যেন ওসব জিনিসের উপরও তাঁর যত রাজ্যের ক্ষোভ! অফিসের ফাইল, নথিপত্র তছনছ হয়ে গেল নিমেষে। এদিন ভাল্যগ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে প্রায় আধ ঘন্টা ধরে কার্যত তাণ্ডব চালাল পিণ্ডিরা গ্রামের বাসিন্দা মদ্যপ ওই ব্যক্তি কালু দলুই। তাঁর ‘রণং দেহি’ মূর্তি দেখে আতঙ্কে সিঁটিয়ে যান পঞ্চায়েত কর্মীরা। অভিযোগ, বাধা দিতে গেলে এক কর্মীর গলা টিপে ধরেন কালু।

আরও পড়ুন:

মদ্যপের তাণ্ডবে তছনছ পঞ্চায়েত অফিস, ছবি: জয়ন্ত দাস

ভাল্যগ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক অভিজিৎ হাজরা, কর্মী রবি দাসরা বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তির কাছে বারবার জানার চেষ্টা করি তাঁর কী সমস্যা। কিন্তু মুখে কিছু বলছে না। মদ্যপ ছিল। আমাদের মারতে আসে। চোখের সামনে যা দেখে ভাঙচুর শুরু করে।” পঞ্চায়েত অফিসে তাঁর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁরাই পুলিশকে খবর দেন। কাছাকাছি ছিলেন দুজন সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁরা এসে কোনওমতে কালুকে বাইরে সরিয়ে দেন। পরে পুলিশ পৌঁছলেও ততক্ষণে কালু দলুই গা-ঢাকা দিয়েছে।

কিন্তু ওই ব্যক্তির রোষের কারণ কী? স্থানীয়দের একাংশের মতে, আবাস যোজনার অনুদান না পাওয়ার ক্ষোভ, তাই মদ্যপান করে কালু এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। জানা গিয়েছে, পেশায় জনমজুর কালু দলুই। মাঝেমধ্যেই মদ্যপান করার অভ্যাস আছে। তাঁর এই কীর্তির পিছনে কারও ইন্ধন রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখতে পুলিশ। গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে এনিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে। আপাতত ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *