রামপ্রসাদ মোদক, রাজগঞ্জ: বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের টাকা (Yuva Sathi cash for Modi rally) উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া শুরু হয়েছে। শনিবার ব্রিগেডে সভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। আর ওই সভায় যোগ দিতে উত্তরবঙ্গের অনেক তরুণের কাছে একমাত্র ভরসা বেকার ভাতার টাকা।
শুক্রবার মোদির (PM Modi) সভায় যোগ দিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশন থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। রাজগঞ্জের বেলাকোবা স্টেশনে দাঁড়িয়ে টাকিমারির তরুণ গোপাল দাস অকপটে স্বীকার করলেন, তিনি দিদির টাকায় মোদির সভায় যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আমার কাছে কলকাতায় যাওয়ার মতো টাকা ছিল না। এরপর হঠাৎ দেখি রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তাই আর কালবিলম্ব না করে ওই টাকা তুলে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’
গোপাল আরও বলেন, ‘বহুদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেখার দারুণ ইচ্ছা ছিল। আশা করি, এবার সেই ইচ্ছা সফল হবে। আমি জানি, দিদি শুধু ভাতা দেবেন। চাকরি দেবেন না। চাকরি দেবেন সেই নরেন্দ্র মোদি। তাই দিদির ভাতার টাকা নিয়ে আমি নরেন্দ্র মোদিকে দেখতে যাচ্ছি। তবে হ্যাঁ, মোদিকে দেখতে যাওয়ার ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে দিদির টাকাতেই।’
এদিন বেলাকোবা রেলস্টেশনে পদ্ম নেতা-কর্মীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিজেপির পতাকা নিয়ে মোদির নামে স্লোগান দিতে দিতে ট্রেনে ওঠেন তাঁরা। আর সেই ভিড়ের মধ্যেই গোপালের মোদি-দর্শনের নেপথ্যে দিদির অবদানের কথা উঠে আসে। তবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি চাউর হতেই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে।
শাসকদলের রাজগঞ্জ (Rajganj) ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ব্লক আইএনটিটিইউসি’র সভাপতি শেখ ওমর ফারুকের বক্তব্য, এটাই আমাদের দিদি। কোনও রাজনৈতিক রং না দেখে সবাইকে ভাতার টাকা দিয়েছেন। সঙ্গে ফারুক আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশে বছরে ২ কোটি বেকারকে চাকরি দেবেন, বাস্তবে মোদি কী দিয়েছেন সেটা সবাই জানে।’ পালটা বিজেপির রাজগঞ্জ দক্ষিণ মণ্ডল সভাপতি সুশান্ত রায় বলেন, ‘ভাতা দিয়ে তো আর সংসার চলবে না, তরুণ-তরুণীরা বুঝতে পেরেছে সেই কথা। চাকরি দিদি দেবে না, সে কথাও বুঝে গিয়েছে তরুণ প্রজন্ম।’
