উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের একটি মন্তব্য জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কিন্তু এমন কী মন্তব্য করেছেন করেছেন তিনি? সম্প্রতি আদিত্যনাথ কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দিয়েছেন, মা-বোন এবং কন্যাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে যাঁরা ছিনিমিনি খেলবেন, তাঁদের জন্য রাস্তার মোড়ে যমরাজ অপেক্ষা করছে! রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যোগীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার পরেই প্রশ্ন উঠেছে: তাহলে কি অপরাধ দমনে ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ এখন দেশের অন্যান্য রাজ্যের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে?
এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার অপরাধের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিন্দুমাত্র আপস করবে না।তিনি বলেন, “যাঁরা আইন এবং প্রশাসনকে প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টা করবেন, তাঁদের কোনও ভাবেই রেয়াত করা হবে না। কেউ যদি মনে করেন মা-বোনেদের সম্মান এবং সম্ভ্রম নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন, তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবেন, তা হলে তিনি বা তাঁরা জেনে রাখুন, আপনাদের জন্য রাস্তার মোড়ে যমরাজ অপেক্ষা করছে। নরক যাওয়ার টিকিটের ব্যবস্থা করে দেব।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই বাক্যগুলিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এনকাউন্টার এবং কঠোরতম শাস্তির ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। লক্ষ্যণীয়, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরপ্রদেশের দেখানো পথে দেশের একাধিক রাজ্যে অপরাধ দমনে অনুরূপ কঠোর পদক্ষেপ (যেমন,এনকাউন্টার) শুরু হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, উত্তরপ্রদেশ এখন মাফিয়া মুক্ত রাজ্য। তাঁর কথায়, পুরনো সেই ‘এক জেলা, এক মাফিয়া’-র দিন শেষ। পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে তিনি জানান, তাঁর সরকার এখন সম্পূর্ণ অন্য পথে হাঁটছে— ‘এক জেলা, এক পণ্য’ এবং ‘এক জেলা, এক কলেজ’, এই অর্থনৈতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি রাজ্যের উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন, যেখানে অপরাধীরা স্থান পাবে না।যোগী আদিত্যনাথ কঠোর সুরে বলেন, “অপরাধী এবং মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের দিন শেষ। তারা যে পথ দেখাবে, সেই পথেই তাদের জবাব দেওয়া হবে। এবং আমরা সেটা করে দেখিয়েছি।”
একদিকে কট্টর অপরাধ দমন নীতি এবং অন্যদিকে উন্নয়নমুখী এজেন্ডা— এই দুইয়ের মিশেলে যোগীর ‘শাসন-নীতি’ এখন অন্য রাজ্যগুলির জন্য একটি নতুন বেঞ্চমার্ক তৈরি করছে কি? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।
