উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের (US Greenback) একচ্ছত্র আধিপত্য শেষ করতে এবার কোমর বেঁধে নামলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। চিনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’কে (Yuan) বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ডাক দিলেন তিনি। সম্প্রতি জিনপিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, চিনকে (China) একটি ‘আর্থিক শক্তিকেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ইউয়ান-কে বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী করতে হবে।
বর্তমানে আমেরিকার পর চিন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। তা সত্ত্বেও জিনপিংয়ের মতে, ব্যাংকিং সম্পদ ও বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে চিন ‘বিশাল’ হলেও প্রকৃত অর্থে এখনও ‘শক্তিশালী’ নয়। এই খামতি মেটাতেই গত এক বছরে চিনের মোট ৬.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ স্থানীয় মুদ্রায় সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের লেনদেনেও ইউয়ানের ব্যবহার বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
ডলারের বিকল্প হিসেবে চিন ও রাশিয়া যৌথভাবে ‘সিআইপিএস’ (CIPS) ব্যবস্থার প্রচার চালাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ‘সুইফট’-এর (SWIFT) প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৫০টি দেশের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় চুক্তি করেছে বেজিং। ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীর মধ্যেও একটি সাধারণ মুদ্রা চালুর ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে আগামীতে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনেও আলোচনার সম্ভাবনা প্রবল।
তবে এই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন হুঁশিয়ারি। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্রিকস দেশগুলি ডলারকে চ্যালেঞ্জ জানালে চড়া শুল্কের মুখে পড়তে হবে। তা সত্ত্বেও জিনপিং তাঁর ‘চিনা বৈশিষ্ট্যের আর্থিক উন্নয়ন’ মডেলে অনড়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে ইউয়ান-কে ডলারের সমকক্ষ করে তোলাই এখন বেজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য।
