উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের (Election Fee) মধ্যে নজিরবিহীন আস্থার সংকটের জেরে এবার সরাসরি বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপের পথে হাঁটল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Courtroom)। রাজ্যের সমস্ত আপত্তি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির যুক্তি খারিজ করে দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, কমিশনের পূর্বনির্ধারিত বিজ্ঞপ্তি মেনেই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (West Bengal Voter Record 2026) প্রকাশিত হবে।
শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বেনজির ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্য প্রশাসন। শুনানিতে কমিশনের তরফে জানানো হয়, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। বাকি ৫ শতাংশ কাজের জন্য পরে একটি অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে। শীর্ষ আদালত এই প্রস্তাবে সায় দিলে, রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিবাল আপত্তি জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, তড়িঘড়ি এই তালিকা প্রকাশে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা (Legislation and Order) পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। কিন্তু আদালত রাজ্যের সেই আর্জি আমল দেয়নি।
বরং, এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্য ও কমিশন—উভয়ের ভূমিকাতেই চরম হতাশা ব্যক্ত করেছে আদালত। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যে এমন এক ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে, যার সম্পূর্ণ দায় রাজ্য সরকারের। দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, বাধ্য হয়ে বিচারবিভাগকে প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।
এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে সুপ্রিম কোর্ট এবার কলকাতা হাই কোর্টকে (Calcutta Excessive Courtroom) এক ঐতিহাসিক দায়িত্বভার অর্পণ করেছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল শনিবারই রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি, কমিশনের প্রতিনিধি, সিইও এবং অ্যাডভোকেট জেনারেলদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত নথি যাচাই করতে প্রতি জেলায় বর্তমান এবং অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের নিয়োগ করবে হাই কোর্ট। রাজ্যের ইআরও-এইআরও ও মাক্রো অবজার্ভার-বিশেষ পর্যবেক্ষকরা এই কাজে সহযোগিতা করবেন। তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত কাজে সরাসরি বিচারকদের এই নজরদারি রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর শীর্ষ আদালতের এক বিরাট অনাস্থারই ইঙ্গিত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
