উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় কর্মসূচি বা এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া শেষের পথে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে স্নায়ুচাপ এখন তুঙ্গে। সৌজন্যে—সাতজন এআরইও (AERO)-র নজিরবিহীন সাসপেনশন। রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক মহলে যখন এই নিয়ে তোলপাড় চলছে, তখন বিতর্কে জল ঢেলে এবং কমিশনের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল। তাঁর সাফ বার্তা, স্বচ্ছতার প্রশ্নে কমিশন “জিরো টলারেন্স” নীতিতেই চলছে।
আইনের দোহাই ও বেনজির পদক্ষেপ
সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাত আধিকারিকের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা কোনও খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নয়। ২০০০ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং কমিশনের এসআইআর গাইডলাইন (SIR Pointers) মেনেই এই কঠোর পদক্ষেপ। তিনি তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গই সম্ভবত একমাত্র রাজ্য, যেখানে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই ধরনের সাসপেনশন কার্যকর হয়েছে। এটি প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই সাসপেনশন প্রত্যাহারে রাজ্য সরকারের একক কোনও ক্ষমতা নেই। একমাত্র নির্বাচন কমিশনের (ECI) সবুজ সংকেত মিললেই এই আধিকারিকরা কাজে ফিরতে পারবেন।
নিচুতলায় কড়া সতর্কতা
শুধু ওপরতলায় নয়, কমিশনের আতসকাঁচের নিচে রয়েছেন বিএলও (BLO) থেকে শুরু করে ইআরও-রাও। সিইও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আবাস যোজনা বা ‘বাংলার বাড়ি’-র মতো প্রকল্পের নথিপত্রর সঙ্গে যারা অন্য নথি জমা দিয়েছেন, সেই নথি যদি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তা আপলোড না করেন বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি করেন, তবে রেয়াত করা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলেই নেমে আসবে কঠোর প্রশাসনিক খড়গ।
ভোটারদের জন্য আপিলের সুযোগ
কমিশন একদিকে যেমন কঠোর, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তৎপর। সিইও জানান, সঠিক নথি দেওয়ার পরেও যদি চূড়ান্ত তালিকা থেকে কারও নাম বাদ যায়, তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রথমে ডিইও (DEO)-র কাছে এবং সেখানে সুরাহা না হলে খোদ সিইও-র কাছে আপিল করার দরজা খোলা থাকছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ২ লক্ষ ৮ হাজার ৮৭০ জন ‘অযোগ্য’ (Ineligible voters) ভোটার চিহ্নিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই কমিশনের এই ‘রুদ্রমূর্তি’ বুঝিয়ে দিল, আসন্ন নির্বাচনে নিয়মভঙ্গকারীদের জন্য কঠিন দিন অপেক্ষা করছে।
