উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Meeting Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (Election Fee) তরফে এক অভাবনীয় ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে, রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা (Remaining Voter Record) প্রকাশের আগেই ভোটের দিনক্ষণ (Election Announcement) ঘোষণা করতে কোনও আইনি বাধা নেই। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশকে হাতিয়ার করেই কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, চূড়ান্ত তালিকার জন্য অপেক্ষা না করেই নির্বাচনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। কমিশনের যুক্তি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যে সমস্ত সংশোধন বা সংযোজন ঘটবে, সেগুলিকে ভিত্তি করেই নির্বাচনের ময়দানে নামা হবে। ফলে ভোটার তালিকা অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ভোট ঘোষণা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়া নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল। যদিও আগামী শুক্রবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে, তবে এখনই ভোটার বাদ পড়ার সম্পূর্ণ হিসাব মিলবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্রের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পরেও ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ করার সুযোগ থাকবে কমিশনের কাছে। তথ্যগত অসঙ্গতি বা যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে এই ধারাবাহিক তালিকা প্রকাশের পথ খোলা রাখা হয়েছে। ফলে একদিকে যখন ভোটার তালিকার কাজ চলবে, অন্যদিকে সমান্তরালভাবে চলতে পারে ভোটের প্রস্তুতি ও নির্ঘণ্ট ঘোষণার প্রক্রিয়া।
নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে বুথ পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করা হল। রাজ্যে বর্তমান বুথ সংখ্যা ৮০,৬৮১টিই থাকছে। যদিও এর আগে ১২০০-র বেশি ভোটার থাকা বুথগুলি ভেঙে নতুন বুথ তৈরির কথা ছিল, কিন্তু ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষ না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে কমিশন। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে বড় বড় বহুতল আবাসন সংলগ্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৭০টি অতিরিক্ত বুথ তৈরি করা হতে পারে। এসআইআর-এর কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় কত ভোটার শেষ পর্যন্ত যুক্ত বা বাদ হলেন তার সঠিক পরিসংখ্যান অমিল, আর এই ধোঁয়াশার কারণেই পুরোনো বুথ পরিকাঠামোতেই ভোট করানোর পথে হাঁটছে কমিশন। কমিশনের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজ্যে বেজে যাবে ভোটের দামামা?
