অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: পাঁচ রাজ্যের প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে ‘ওয়েব কাস্টিং’ (Webcasting points in Alipurduar) করা হবে। অর্থাৎ ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা লাগানো থাকবে। সেই ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রটিকে সবসময় নজরে রাখবে নির্বাচন কমিশন। মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ওই ক্যামেরাগুলো যুক্ত থাকবে। রবিবার এমনই ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। এখানেই চিন্তায় পড়েছেন আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের কর্তারা। পাহাড় এবং জঙ্গলে ঘেরা এই জেলায় ৫৩টি ভোটকেন্দ্রে ওয়েব কাস্টিং নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কারণ সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।
সোমবার জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যায় বিভিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কীভাবে সমস্যা মেটানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে। এই নিয়ে জেলা নির্বাচন আধিকারিক শেলভা অভিজিৎ তুকারাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিয়মমতো ১০০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে ওয়েব কাস্টিং কীভাবে করা যায়, সেটা দেখা হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কালচিনি বিধানসভায় এই সমস্যা সবথেকে বেশি। বক্সা টাইগার রিজার্ভ এবং বক্সা পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে। ওই বিধানসভায় ২২টি ভোটকেন্দ্রে ইন্টারনেটের সমস্যা রয়েছে। যার মধ্যে বক্সা পাহাড়ের তিনটি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়াও কুমারগ্রাম বিধানসভায় ১৩টি, ফালাকাটা বিধানসভায় ৬টি এবং মাদারিহাট (Madarihat) বিধানসভায় ১২টি ভোটকেন্দ্রে ইন্টারনেট পরিষেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের। এদিন জেলা প্রশাসনের তরফে বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। জেলায় পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল।
আর মনোনয়নপত্র গ্রহণ শুরু হবে ৩০ মার্চ থেকে। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৩৫০টি। তার মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ১ হাজার ২৪১টি এবং শহরে ১০৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া, জেলায় প্রায় ৮০ হাজার ভোটার এখনও বিচারাধীন রয়েছেন। সেই ভোটার মিলিয়ে জেলায় মোট ভোটার ১১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৫০ জন। তাঁদের মধ্যে ৬ লক্ষ ৬ হাজার ৮৫৮ জন পুরুষ এবং ৫ লক্ষ ৯০ হাজার ৭৭১ জন মহিলা ভোটার রয়েছেন।
