গৌরহরি দাস, কোচবিহার: উৎসবের মধ্যেও বেতন পেলেন না জেলার ১১ শতাধিক পার্শ্বশিক্ষক–শিক্ষিকা। মার্চ মাসের ৪ তারিখ পার হয়ে গেলেও এত সংখ্যক পার্শ্বশিক্ষক (WB Para Trainer Wage Delay)-শিক্ষিকা এখনও বেতন না পাওয়ায় ভয়াবহ সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। তবে শুধু পার্শ্বশিক্ষক-শিক্ষিকারাই নন, সমগ্র শিক্ষা মিশনের (এসএসএম) জেলা অফিস এবং সার্কেল অফিসের অফিস ম্যানেজমেন্টের আরও প্রায় ৭০ জন কর্মী-আধিকারিকও এখনও পর্যন্ত বেতন পাননি।
এক পার্শ্বশিক্ষকের কথায়, ‘যৎসামান্য বেতন পাওয়ায় এমনিতেই টানাটানির সংসার। তার ওপর বাড়িতে আমার মা-বাবা দুজন অসুস্থ। এই অবস্থায় এখনও পর্যন্ত বেতন না পাওয়ায় তাঁদের যে ডাক্তার দেখাব বা একটু ওষুধ কিনে দেব সেই পয়সাও নেই। এমনকি হোলি উৎসব গেল। ছেলে বায়না করেছিল পিচকারি ও রং কিনে দেওয়ার জন্য। কিন্তু পয়সার অভাবে ছেলেকে সেটাও পর্যন্ত কিনে দিতে পারিনি।’
তাঁদের সকলের বেতন ঠিক কবে হবে সে বিষয়েও স্পষ্ট করে কেউ কিছু জানাতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে জেলা সহ রাজ্যের শিক্ষা মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে নিখিলবঙ্গ পার্শ্বশিক্ষক-শিক্ষিকা সমিতির কোচবিহার জেলা নেতা উৎপল সরকার বলেন, ‘এমনিতে আমরা খুব সামান্য বেতন পাই, যা দিয়ে আমাদের কোনওভাবে চলে। এই অবস্থায় মাসের ৪ তারিখ পার হয়ে গেলেও এখনও বেতন না পাওয়ায় আমরা খুব সমস্যায় পড়েছি। আমরা আর দুই-চারদিন দেখব। সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’ বেতন না পাওয়ায় খুব সমস্যায় পড়েছেন বলে জানালেন সমগ্র শিক্ষা মিশনের এক কর্মীও। বিষয়টি নিয়ে কোচবিহার জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশনের ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার মহাদেব শৈবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না তোলায় প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
সমগ্র শিক্ষা মিশন ও জেলার বিভিন্ন পার্শ্বশিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার হাইস্কুলগুলিতে সবমিলিয়ে প্রায় ৯৮০ জন ও প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ১৭০ জনের মতো পার্শ্বশিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকাই প্রায় ২০০৪ সাল থেকে কাজ করে আসছেন। স্থায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মতো এঁদেরও প্রায় প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্কুলে নিয়মিত বিভিন্ন ক্লাস নিতে হলেও বেতন পান মাত্র ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা, যা দিয়ে বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে তাঁদের সংসার কোনওভাবেই চলে না। এই অবস্থায় ন্যূনতম ৪০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পার্শ্বশিক্ষক–শিক্ষিকারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে এলেও তাঁদের দাবি পূরণ হয়নি। এই নিয়ে এমনিতেই তাঁদের যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে, তার ওপর মার্চ মাসে এখনও পর্যন্ত বেতন না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা।
বিশেষ সূত্রে খবর, এই সমস্যা শুধু কোচবিহার জেলাতেই নয়, গোটা রাজ্যের প্রায় ৪৫ হাজার পার্শ্বশিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সমগ্র শিক্ষা মিশনের দুই হাজারের মতো অফিস ম্যানেজমেন্টের কর্মী-আধিকারিকদের বেতনের অভাবে এই একই সমস্যা চলছে।
